বর্ণাঢ্য আয়োজনে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর, রোববার লন্ডনে আত্মপ্রকাশ করল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন—সৃজন। পূর্ব লন্ডনের ব্র্যাডি আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠানটি শুরু হয় সংগঠনের সভাপতি শাহাব আহমেদ বাচ্চুর স্বাগত ভাষণের মধ্য দিয়ে। সৃজনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন লেনিন হক। ধনঞ্জয় পাল ও হাসনিন চৌধুরী সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবন ও সাহিত্যকর্ম তুলে ধরেন।
মুনিরা পারভীন ও আদিত্য এইচ সৈয়দের আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সঞ্জয় দে, গৌরী চৌধুরী ও লাবণী বড়ুয়ার কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘রানার’ কবিতার সংগীতরূপ। গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন মনিরুল ইসলাম মুকুল ও নিহারিকা ভৌমিক।
সুকান্তের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন টি. এম. আহমেদ কায়সার, পল্টু দত্ত ও রূপিতা রামিয়া-গ্রাহাম।
ক্লিওপেট্রা পল ও রাহা দেওয়ান-সৈয়দ আবৃত্তি করেন ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি। লাবণী বড়ুয়া পরিবেশন করেন ‘হে মহাজীবন’ কবিতার সংগীতরূপ। ড. বন্যা চক্রবর্তী আবৃত্তি করেন ‘দেশলাই কাঠি’। এ কবিতাটি লাটভিয়ান ভাষায় পরিবেশন করেন অ্যাগনেসে গ্রাউদিনা। গৌরী চৌধুরী পরিবেশন করেন ‘অবাক পৃথিবী’ গানটি।
ডেভিড লি মরগান আবৃত্তি করেন ‘দুর্মর’ কবিতার ইংরেজি অনুবাদ। ইতালীয় ভাষায় ‘আগ্নেয়গিরি’ আবৃত্তি করেন জিউসেপ্পে মাস্ত্রোয়ান্নি। নিজস্ব সুরে ‘দুরাশার মৃত্যু’ পরিবেশন করেন সঞ্জয় দে। ‘প্রিয়তমাসু’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন উর্মী মাযহার।
মুনিরা পারভীনের পরিকল্পনায় পরিবেশিত হয় দলীয় আবৃত্তি। এতে অংশ নেন শতরূপা চৌধুরী, বন্যা চক্রবর্তী, ধনঞ্জয় পাল, শাহ শরীফ উদ্দিন ও নজরুল ইসলাম অকিব। অনুষ্ঠানটি শেষ হয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সৌধের পরিচালক টি. এম. আহমেদ কায়সারের গ্রন্থনা ও পরিচালনায় কাব্যনাট্য ‘ছাড়পত্র’ মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে। এতে অংশগ্রহণ করেন তনুশ্রী গুহ, নাজিয়া আমিন, আসমিতা কীর ও সারওয়ার ই আলম। নেপথ্যে সেলো পরিবেশন করেন হার্ভে গিবস। বিভিন্ন পর্যায়ে কিবোর্ডে ছিলেন অমিত দে এবং তবলায় পিয়াস বড়ুয়া। রামিয়া রহিম চৌধুরী সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। বিলেতে বাংলা সাহিত্য ও বাঙালি সংস্কৃতির চর্চা, পরিচর্যা ও বিকাশে সৃজন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
মতামত