ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক জনপদের খবর

ইরান যুদ্ধে ৮১ সামরিক বিমান হারালো যুক্তরাষ্ট্র, ক্ষতি কত জানালো মার্কিন বাহিনী



ইরান যুদ্ধে ৮১ সামরিক বিমান হারালো যুক্তরাষ্ট্র, ক্ষতি কত জানালো মার্কিন বাহিনী
মার্কিন সামরিক বাহিনীর এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ ৩৩০ কোটি ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে নতুন এক কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) প্রতিবেদনে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট এ খবর জানিয়েছে। 

মঙ্গলবার প্রকাশিত সিআরএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আধুনিক কয়েকটি যুদ্ধবিমানও রয়েছে। এর মধ্যে একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ স্টেলথ ফাইটার এবং ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ বা নিজেদের গুলিতে  ভূপাতিত হয়। পরের মাসে ইরানের আকাশসীমায় আরেকটি এফ-১৫ ভূপাতিত হয়। এ ছাড়া ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের বিমান হামলায় আরও আটটি এফ-১৫ই সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বড় ধরনের আরেকটি ক্ষতি হয়েছে এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনে। অন্তত ৪৫টি এ ধরনের ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিটির আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ডলার। নজরদারি ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা— দুই ধরনের কাজেই ব্যবহার করা যায় এসব ড্রোন। ক্ষতির কারণে রিপার ড্রোনের বহর কমে ১৩৫টিতে নেমে এসেছে বলে মে মাসে সিনেটে জানিয়েছিলেন এক মার্কিন বিমানবাহিনীর জেনারেল।

এয়ার ফোর্স টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, যেকোনও সময় অন্তত ১৮৯টি মোতায়েনযোগ্য রিপার ড্রোন থাকার কথা মার্কিন বিমানবাহিনীর।

বিশ্লেষণে পঞ্চম প্রজন্মের একটি এফ-৩৪এ যুদ্ধবিমানের ক্ষতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আধুনিক এই যুদ্ধবিমানটির মূল্য ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি। ১৯ মার্চ ইরানের হামলার মুখে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সিআরএস বিশেষভাবে ২৭ কোটি ডলার মূল্যের একটি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান হারানোর কথাও উল্লেখ করেছে। বোয়িং ৭০৭ উড়োজাহাজের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এটি পুরোনো হলেও গুরুত্বপূর্ণ বিমানটির ২০১৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বহরে ৩২টি ছিল।

এপ্রিল মাসে একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ স্থল আক্রমণকারী বিমানও হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেপ্টেম্বর মাসে জর্ডানে হামলার সময় আরেকটি এ-১০ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজের তালিকায় রয়েছে- ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ স্টেলথ ফাইটার, দুটি এ-১০ ‘ওয়ারথগ’ আক্রমণকারী বিমান, সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, একটি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো-২ বিশেষ অভিযান বিমান, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন-২ যুদ্ধ অনুসন্ধান ও উদ্ধার হেলিকপ্টার, একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন, তিনটি এমকিউ-১ বহুমুখী ড্রোন, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি আক্রমণকারী হেলিকপ্টার, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড হালকা আক্রমণকারী হেলিকপ্টার এবং একটি এমএইচ-৬০ সি হক সামুদ্রিক হেলিকপ্টার।

গত মাসে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, ইরান যুদ্ধে মোট ব্যয় বেড়ে ৪৩৬০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগস্টের তুলনায় এই ব্যয় বেড়েছে ৫০০ কোটি ডলার।

অস্ত্রের ব্যয়ও মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময়ে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি বেড়েছে। সর্বশেষ কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের প্রতিবেদনে এই ব্যয় ২১৭০ কোটি ডলার দেখানো হলেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাবে তা বেড়ে ২৮১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব সংবাদ বিমান বাহিনী ইরান যুদ্ধ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

দৈনিক জনপদের খবর

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


ইরান যুদ্ধে ৮১ সামরিক বিমান হারালো যুক্তরাষ্ট্র, ক্ষতি কত জানালো মার্কিন বাহিনী

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ ৩৩০ কোটি ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে নতুন এক কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) প্রতিবেদনে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট এ খবর জানিয়েছে। 

মঙ্গলবার প্রকাশিত সিআরএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আধুনিক কয়েকটি যুদ্ধবিমানও রয়েছে। এর মধ্যে একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ স্টেলথ ফাইটার এবং ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ বা নিজেদের গুলিতে  ভূপাতিত হয়। পরের মাসে ইরানের আকাশসীমায় আরেকটি এফ-১৫ ভূপাতিত হয়। এ ছাড়া ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের বিমান হামলায় আরও আটটি এফ-১৫ই সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বড় ধরনের আরেকটি ক্ষতি হয়েছে এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনে। অন্তত ৪৫টি এ ধরনের ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিটির আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ডলার। নজরদারি ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা— দুই ধরনের কাজেই ব্যবহার করা যায় এসব ড্রোন। ক্ষতির কারণে রিপার ড্রোনের বহর কমে ১৩৫টিতে নেমে এসেছে বলে মে মাসে সিনেটে জানিয়েছিলেন এক মার্কিন বিমানবাহিনীর জেনারেল।

এয়ার ফোর্স টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, যেকোনও সময় অন্তত ১৮৯টি মোতায়েনযোগ্য রিপার ড্রোন থাকার কথা মার্কিন বিমানবাহিনীর।

বিশ্লেষণে পঞ্চম প্রজন্মের একটি এফ-৩৪এ যুদ্ধবিমানের ক্ষতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আধুনিক এই যুদ্ধবিমানটির মূল্য ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি। ১৯ মার্চ ইরানের হামলার মুখে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সিআরএস বিশেষভাবে ২৭ কোটি ডলার মূল্যের একটি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান হারানোর কথাও উল্লেখ করেছে। বোয়িং ৭০৭ উড়োজাহাজের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এটি পুরোনো হলেও গুরুত্বপূর্ণ বিমানটির ২০১৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বহরে ৩২টি ছিল।

এপ্রিল মাসে একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ স্থল আক্রমণকারী বিমানও হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেপ্টেম্বর মাসে জর্ডানে হামলার সময় আরেকটি এ-১০ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজের তালিকায় রয়েছে- ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ স্টেলথ ফাইটার, দুটি এ-১০ ‘ওয়ারথগ’ আক্রমণকারী বিমান, সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, একটি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো-২ বিশেষ অভিযান বিমান, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন-২ যুদ্ধ অনুসন্ধান ও উদ্ধার হেলিকপ্টার, একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন, তিনটি এমকিউ-১ বহুমুখী ড্রোন, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি আক্রমণকারী হেলিকপ্টার, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড হালকা আক্রমণকারী হেলিকপ্টার এবং একটি এমএইচ-৬০ সি হক সামুদ্রিক হেলিকপ্টার।

গত মাসে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, ইরান যুদ্ধে মোট ব্যয় বেড়ে ৪৩৬০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগস্টের তুলনায় এই ব্যয় বেড়েছে ৫০০ কোটি ডলার।

অস্ত্রের ব্যয়ও মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময়ে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি বেড়েছে। সর্বশেষ কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের প্রতিবেদনে এই ব্যয় ২১৭০ কোটি ডলার দেখানো হলেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাবে তা বেড়ে ২৮১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


দৈনিক জনপদের খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক: লিমা ইয়াসমিন
নির্বাহী সম্পাদক : সাইফুল ইসলাম খান
বার্তা সম্পাদক : এস টি শাহিন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনপদের খবর
ইরান যুদ্ধে ৮১ সামরিক বিমান হারালো যুক্তরাষ্ট্র, ক্ষতি কত জানালো মার্কিন বাহিনী
0:00 0:00
1.0x