ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক জনপদের খবর

নিজেকে সতেজ ও কর্মক্ষম রাখার সহজ অভ্যাস


প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

নিজেকে সতেজ ও কর্মক্ষম রাখার সহজ অভ্যাস

আশ্বিন মাস প্রায় শেষের দিকে। অর্থাৎ বর্ষার পর শরতের শেষ বিদায়ের পালা। দরজায় কড়া নাড়ছে হেমন্তের দিন। গাছে গাছে পুরোনো পাতা ঝরে সামনে আসবে প্রকৃতির নতুন রূপ। প্রকৃতি যেভাবে নিজের রূপ বদলে সতেজ হয়ে ওঠে, ঋতু পরিবর্তনের এই দোলা মানুষের মনকেও নাড়া দেয়। শুধু মনই নয়, সূর্যের আলো কমে আসার এই সময়ে শরীর ও স্বাস্থ্যের ওপরও এর বড় প্রভাব পড়ে। শরতে সূর্য ডোবার সময় এগিয়ে আসে এবং দিনের আলো ছোট হতে থাকে। ফলে আমাদের শরীরে অলসতা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শরীরকে নতুন উদ্যমে চাঙা রাখতে এখন থেকেই কিছু সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

উৎকণ্ঠা ও অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা শরীরের বিপুল শক্তি শুষে নেয়। কাজের চাপ কমিয়ে গুরুত্ব ঠিক করা এবং মানসিক চাপ কমাতে বন্ধু বা প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। এ ছাড়া ইয়োগা বা মেডিটেশন বেশ কার্যকর। হাসির ফলে শরীরে বেশি পরিমাণ অক্সিজেন প্রবেশ করে, যা হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসকে সক্রিয় করে এবং মস্তিষ্কে অ্যান্ডোরফিন নামক ফিল-গুড হরমোন নিঃসৃত করে শক্তি বাড়ায়।

হেমন্তে অলসতা কাটাতে পুষ্টিকর খাবার ভূমিকা রাখে।

ধীরগতির কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন: রিফাইন চিনি বা অতিরিক্ত শর্করাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। কারণ, এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে আবার কমিয়ে দেয়। এর বদলে শাকসবজি, বাদাম ও হোল গ্রেইন খাবার খাওয়া উচিত। সকালে প্রোটিনযুক্ত নাশতা এবং পুষ্টিকর স্যুপ শরীরকে সতেজ রাখে।

পর্যাপ্ত পানি ও ইলেকট্রোলাইটস: শরীরে পানির অভাব হলে প্রথম লক্ষণ হিসেবে ক্লান্তি দেখা দেয়। তাই সারা দিন পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। পানির সঙ্গে ইলেকট্রোলাইটস যুক্ত করলে শরীরের স্নায়ুতন্ত্র আরও ভালোভাবে কাজ করে।

শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করলে রক্তে অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়ে এবং মস্তিষ্কে ডোপামিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। দিনের বেলা ঘরের বাইরে হেঁটে আসা সতেজ বাতাস ও প্রাকৃতিক আলো দেয়। তাই কাজের ফাঁকে দিনের কোনো একটা সময়ে একটু বাইরে হেঁটে আসুন। কাজের ক্লান্তি দূর করতে ২৫ মিনিট কাজ করে ৫ মিনিটের বিরতি নেওয়ার ‘পোমোদোরো’ পদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে। এ ছাড়া টেবিল ছেড়ে মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে কাজ করা এবং সোজা হয়ে বসা শরীরের এনার্জি বজায় রাখে।

দিনের আলো কমে আসার সঙ্গে তাল মেলাতে ঘুমানোর সময় কিছুটা এগিয়ে আনা প্রয়োজন।

—রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইল বা ডিভাইসের ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। রাতে ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা ঠান্ডা রাখলে গভীর ঘুম ভালো হয়।

—দুপুরের পর বা বিকেলে ক্যাফেইন গ্রহণ এড়ানো উচিত; কারণ, এটি রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। অ্যালকোহল শরীরের শক্তির মূল উৎস এটিপি উৎপাদনে বাধা দেয়, তাই অ্যালকোহল বর্জন করাই শ্রেয়।

ঠান্ডা পানিতে গোসল: ঠান্ডা পানি বা কোল্ড শাওয়ার শরীরে ডোপামিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে, যা প্রেরণা জোগায়।

স্ট্রেচিং ও ডিপ ব্রিদিং: ঘুম থেকে উঠে বা কাজের ফাঁকে একটু হাত-পা ছড়িয়ে স্ট্রেচিং করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। গভীর শ্বাস নিলে কোষে সহজেই পুষ্টি পৌঁছায়।

ম্যাগনেশিয়াম ও মাশরুম সাপ্লিমেন্ট: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ভিটামিন, ম্যাগনেশিয়াম বা লায়নস মেইন ও রেইশির মতো মাশরুম উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও শক্তি বাড়ায়।

প্রকৃতি যেভাবে পুরোনোকে ঝরিয়ে নতুন সতেজতায় জেগে ওঠে, ঠিক তেমনি এসব ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে আমরাও হেমন্তের এই দিনগুলোতে শরীর ও মনকে রাখতে পারি পুরোপুরি সতেজ ও প্রাণবন্ত।

সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, দ্য গার্ডিয়ান, এভরিডে হেলথ

বিষয় : জীবনধারা জেনে নিন

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

দৈনিক জনপদের খবর

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


নিজেকে সতেজ ও কর্মক্ষম রাখার সহজ অভ্যাস

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

আশ্বিন মাস প্রায় শেষের দিকে। অর্থাৎ বর্ষার পর শরতের শেষ বিদায়ের পালা। দরজায় কড়া নাড়ছে হেমন্তের দিন। গাছে গাছে পুরোনো পাতা ঝরে সামনে আসবে প্রকৃতির নতুন রূপ। প্রকৃতি যেভাবে নিজের রূপ বদলে সতেজ হয়ে ওঠে, ঋতু পরিবর্তনের এই দোলা মানুষের মনকেও নাড়া দেয়। শুধু মনই নয়, সূর্যের আলো কমে আসার এই সময়ে শরীর ও স্বাস্থ্যের ওপরও এর বড় প্রভাব পড়ে। শরতে সূর্য ডোবার সময় এগিয়ে আসে এবং দিনের আলো ছোট হতে থাকে। ফলে আমাদের শরীরে অলসতা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শরীরকে নতুন উদ্যমে চাঙা রাখতে এখন থেকেই কিছু সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

উৎকণ্ঠা ও অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা শরীরের বিপুল শক্তি শুষে নেয়। কাজের চাপ কমিয়ে গুরুত্ব ঠিক করা এবং মানসিক চাপ কমাতে বন্ধু বা প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। এ ছাড়া ইয়োগা বা মেডিটেশন বেশ কার্যকর। হাসির ফলে শরীরে বেশি পরিমাণ অক্সিজেন প্রবেশ করে, যা হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসকে সক্রিয় করে এবং মস্তিষ্কে অ্যান্ডোরফিন নামক ফিল-গুড হরমোন নিঃসৃত করে শক্তি বাড়ায়।

হেমন্তে অলসতা কাটাতে পুষ্টিকর খাবার ভূমিকা রাখে।

ধীরগতির কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন: রিফাইন চিনি বা অতিরিক্ত শর্করাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। কারণ, এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে আবার কমিয়ে দেয়। এর বদলে শাকসবজি, বাদাম ও হোল গ্রেইন খাবার খাওয়া উচিত। সকালে প্রোটিনযুক্ত নাশতা এবং পুষ্টিকর স্যুপ শরীরকে সতেজ রাখে।

পর্যাপ্ত পানি ও ইলেকট্রোলাইটস: শরীরে পানির অভাব হলে প্রথম লক্ষণ হিসেবে ক্লান্তি দেখা দেয়। তাই সারা দিন পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। পানির সঙ্গে ইলেকট্রোলাইটস যুক্ত করলে শরীরের স্নায়ুতন্ত্র আরও ভালোভাবে কাজ করে।

শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করলে রক্তে অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়ে এবং মস্তিষ্কে ডোপামিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। দিনের বেলা ঘরের বাইরে হেঁটে আসা সতেজ বাতাস ও প্রাকৃতিক আলো দেয়। তাই কাজের ফাঁকে দিনের কোনো একটা সময়ে একটু বাইরে হেঁটে আসুন। কাজের ক্লান্তি দূর করতে ২৫ মিনিট কাজ করে ৫ মিনিটের বিরতি নেওয়ার ‘পোমোদোরো’ পদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে। এ ছাড়া টেবিল ছেড়ে মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে কাজ করা এবং সোজা হয়ে বসা শরীরের এনার্জি বজায় রাখে।

দিনের আলো কমে আসার সঙ্গে তাল মেলাতে ঘুমানোর সময় কিছুটা এগিয়ে আনা প্রয়োজন।

—রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইল বা ডিভাইসের ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। রাতে ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা ঠান্ডা রাখলে গভীর ঘুম ভালো হয়।

—দুপুরের পর বা বিকেলে ক্যাফেইন গ্রহণ এড়ানো উচিত; কারণ, এটি রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। অ্যালকোহল শরীরের শক্তির মূল উৎস এটিপি উৎপাদনে বাধা দেয়, তাই অ্যালকোহল বর্জন করাই শ্রেয়।

ঠান্ডা পানিতে গোসল: ঠান্ডা পানি বা কোল্ড শাওয়ার শরীরে ডোপামিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে, যা প্রেরণা জোগায়।

স্ট্রেচিং ও ডিপ ব্রিদিং: ঘুম থেকে উঠে বা কাজের ফাঁকে একটু হাত-পা ছড়িয়ে স্ট্রেচিং করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। গভীর শ্বাস নিলে কোষে সহজেই পুষ্টি পৌঁছায়।

ম্যাগনেশিয়াম ও মাশরুম সাপ্লিমেন্ট: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ভিটামিন, ম্যাগনেশিয়াম বা লায়নস মেইন ও রেইশির মতো মাশরুম উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও শক্তি বাড়ায়।

প্রকৃতি যেভাবে পুরোনোকে ঝরিয়ে নতুন সতেজতায় জেগে ওঠে, ঠিক তেমনি এসব ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে আমরাও হেমন্তের এই দিনগুলোতে শরীর ও মনকে রাখতে পারি পুরোপুরি সতেজ ও প্রাণবন্ত।

সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, দ্য গার্ডিয়ান, এভরিডে হেলথ


দৈনিক জনপদের খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক: লিমা ইয়াসমিন
নির্বাহী সম্পাদক : সাইফুল ইসলাম খান
বার্তা সম্পাদক : এস টি শাহিন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনপদের খবর
নিজেকে সতেজ ও কর্মক্ষম রাখার সহজ অভ্যাস
0:00 0:00
1.0x