কলেজের ফেয়ারওয়েল হোক বা বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার প্রস্তুতি; আলমারিতে মনমতো পোশাক না পেলে নব্বই দশকের তরুণীরা জেন-জিদের মতো চট করে একটা নতুন কাপড় কিনে ফেলতেন না। অনলাইনে কেনাকাটার চলই তো তখন ছিল না। বছরের জরুরি উৎসব আর প্রয়োজন ছাড়া কাপড় কেনার ব্যাপারটিও কঠিন ছিল। সে সময় কী করা হতো তাহলে? আলমারিতে তখন এমন শাড়ির খোঁজ পরত, যা পরা হচ্ছে না, হয়তো ছোটখাটো খুঁতও রয়েছে আবার চাইলে দরজিকে দিয়ে দারুণ পোশাক তৈরি করেও নেওয়া যাবে। হ্যাঁ, ভাঁজে ভাঁজে কেটে যাওয়া জামদানি শাড়ি, বোনের গায়েহলুদে পাওয়া লাল পেড়ে হলুদ কাতান বা জরিওয়ালা পায়ের সিল্কের শাড়ি কেটে তৈরি হতো শখের সালোয়ার-কামিজ, টু-পিস, লেহেঙ্গা, লং ফ্রকসহ কত কী! প্রিয় জেন-জি, এবেলায় বলে রাখছি, আলমারির কোণে পড়ে থাকা মায়ের জর্জেট, কাতান বা সিল্কের শাড়ি বা আপনার সাধের পাড় ছিঁড়ে যাওয়া জামদানিটি কি শুধুই জায়গা নষ্ট করছে? একটু সৃজনশীলতা আর সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এই পুরোনো শাড়ি দিয়েই বানিয়ে ফেলা যায় দারুণ সব আধুনিক পোশাক। শাড়ি কেটে কীভাবে নতুন পোশাক তৈরি করবেন, তা ঝটপট জেনে নিন। বন্ধুর জন্মদিন, অফিসের ওয়ান ডিশ পার্টি বা কারও গায়েহলুদ বা মেহেদির অনুষ্ঠান—এসব উপলক্ষে সুন্দর পোশাক তৈরিতে কাজে লাগতে পারে ব্যাপারটি। জর্জেট, শিফন, সিল্ক বা কাতান শাড়ি বেছে নিতে পারেন। শাড়ির ঘের আনারকলির ঘের হিসেবে ব্যবহার করুন। শাড়ির চওড়া পার বা আঁচল কেটে হাফ বডি বা গলার ডিজাইন তৈরি করা যায়। সুতি, লিনেন বা হ্যান্ডলুম শাড়ি দিয়ে আরামদায়ক কুর্তি বানিয়ে নিতে পারেন। পাড়ের অংশটি হাতা এবং নিচের বর্ডারে দিলে দেখতে চমৎকার লাগে। একটি শাড়ি থেকে অনায়াসে দুটি কুর্তি তৈরি করা সম্ভব। পাতলা জর্জেট, নেটের শাড়ি বা সুতি শাড়ি ব্যবহার করলে ভালো। যেকোনো সাধারণ জিনস-টপস বা কুর্তির ওপর জাঁকালো ভাব আনতে একটি লং শ্রাগ বা কেপ বানিয়ে নিন। শাড়ির আঁচলের অংশটি শ্রাগের পেছনে বা হাতায় ব্যবহার করলে আধুনিক লুক আসে। সিল্ক কিংবা সুতি শাড়ি দিয়ে জ্যাকেট তৈরি করা যেতে পারে। কুর্তা, জিনস বা সাধারণ টপের সঙ্গে এই ধরনের জ্যাকেট পরলে সাজে আলাদা মাত্রা যোগ হবে। বেনারসি, সিল্ক বা ভারী কাজের জর্জেট শাড়ি দিয়ে এ ধরনের পোশাক তৈরি করলে ভালো লাগে। শাড়ির জমিনের অংশ থেকে খুব সহজে কলিদার লেহেঙ্গা বা ফ্লেয়ার্ড স্কার্ট তৈরি করা যায়। আঁচলটি কেটে ব্লাউজ বা ক্রপ টপ বানিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে একটি পুরো এথনিক সেট। পুরোনো বেনারসি বা সিল্ক শাড়ি থেকে সুন্দর ওড়না বানানো যায়। একরঙা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে এমন একটি ওড়না পরলেই সাজে উৎসবের ছোঁয়া আসবে। মেহেদি বা বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্যও এটি দারুণ যোগ হয়ে উঠতে পারে। এগুলো তৈরিতে সুতি, লিনেন বা বাটিকের শাড়ি বেছে নিতে পারেন। শাড়ির জমিন থেকে কামিজ এবং বাকি অংশ থেকে লুজ-ফিট পালাজ্জো বা ধুতি প্যান্ট তৈরি করতে পারেন। এটি দেখতে যেমন স্টাইলিশ, গরমে পরতেও তেমন আরামদায়ক। সিল্ক ও কাতান শাড়ি দিয়ে পোশাক তৈরির সময় অবশ্যই ভেতরে ভালো মানের সুতি লাইনিং ব্যবহার করুন। সুতি শাড়ি কাটার আগে অন্তত একবার পানিতে ধুয়ে ইস্তিরি করে নিন, যাতে পরে কাপড় সংকুচিত না হয়। জর্জেট ও শিফন শাড়িগুলো কাটার সময় একটু সাবধানে কাটতে হয়। ভালো দরজি বা টেইলরের সাহায্য নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে এ ক্ষেত্রে। সূত্র: ক্লাউড টেইলর ও অন্যান্য
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।