ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক জনপদের খবর

আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল কীভাবে করতে হয়, এর গুরুত্ব কী



আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল কীভাবে করতে হয়, এর গুরুত্ব কী
ফাইল ছবি

ইসলামি জীবনদর্শনে তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর ভরসা করা মুমিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। এই এক শক্তিই একজন ইমানদারকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অবিচল রাখে। পার্থিব জীবনে যে ব্যক্তি তাওয়াক্কুলের শক্তি যত বেশি ধারণ করতে পেরেছে, তার আত্মবিশ্বাস ততখানিই মজবুত।

তাওয়াক্কুল অর্থ হলো নিজের সব কাজ আল্লাহর ওপর সোপর্দ করা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বারবার এই ভরসার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।’ (সুরা তালাক: ৩)

মুমিনের জন্য এর চেয়ে বড় অভয়বাণী আর কী হতে পারে? যখন সৃষ্টিকর্তা স্বয়ং কারও দায়িত্ব নেন, তখন তার আর কোনো দুশ্চিন্তার কারণ থাকে না।

মুমিনদের স্বভাবজাত ভয় ও শঙ্কা কাটানোর জন্য দয়াময় আল্লাহ কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে তাঁর ওপর ভরসা করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করবে, তার বিজয় অনিবার্য। কারণ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা পরাক্রমশীল ও প্রজ্ঞাবান।’ (সুরা আনফাল: ৪৯)

অন্য আয়াতে এসেছে, ‘ইমানদার বান্দাগণ যেন কেবল আল্লাহ তাআলার ওপরই ভরসা করে।’ (সুরা ইবরাহিম: ১১)

ভরসা এমন কারও ওপরই করতে হয়, যিনি ক্ষমতা ও ইচ্ছায় সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং যাঁর মুঠোয় গোটা মহাবিশ্ব। এটি কেবল আল্লাহরই গুণ। আল্লাহর ওপর ভরসা করার পুরস্কার হলো তাঁর ভালোবাসা পাওয়া। আল্লাহ নবীজি (সা.)-কে আদেশ দিয়ে বলেছেন, ‘অতঃপর আপনি কোনো বিষয়ে কৃতসংকল্প হলে আল্লাহর ওপর ভরসা করুন। যারা আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৫৯)

তবে তাওয়াক্কুল মানে আল্লাহর ওপর ভরসা করে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা নয়। বরং সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করার পর ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়াকেই প্রকৃত তাওয়াক্কুল বলা হয়। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে যদি আমরা এই গুণটি অর্জন করতে পারি, তবে আমাদের ইহকাল ও পরকাল—উভয়ই হবে সাফল্যমণ্ডিত।

বিষয় : ছাপা সংস্করণ ইসলাম নৈতিকতা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

দৈনিক জনপদের খবর

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল কীভাবে করতে হয়, এর গুরুত্ব কী

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইসলামি জীবনদর্শনে তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর ভরসা করা মুমিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। এই এক শক্তিই একজন ইমানদারকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অবিচল রাখে। পার্থিব জীবনে যে ব্যক্তি তাওয়াক্কুলের শক্তি যত বেশি ধারণ করতে পেরেছে, তার আত্মবিশ্বাস ততখানিই মজবুত।

তাওয়াক্কুল অর্থ হলো নিজের সব কাজ আল্লাহর ওপর সোপর্দ করা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বারবার এই ভরসার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।’ (সুরা তালাক: ৩)

মুমিনের জন্য এর চেয়ে বড় অভয়বাণী আর কী হতে পারে? যখন সৃষ্টিকর্তা স্বয়ং কারও দায়িত্ব নেন, তখন তার আর কোনো দুশ্চিন্তার কারণ থাকে না।

মুমিনদের স্বভাবজাত ভয় ও শঙ্কা কাটানোর জন্য দয়াময় আল্লাহ কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে তাঁর ওপর ভরসা করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করবে, তার বিজয় অনিবার্য। কারণ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা পরাক্রমশীল ও প্রজ্ঞাবান।’ (সুরা আনফাল: ৪৯)

অন্য আয়াতে এসেছে, ‘ইমানদার বান্দাগণ যেন কেবল আল্লাহ তাআলার ওপরই ভরসা করে।’ (সুরা ইবরাহিম: ১১)

ভরসা এমন কারও ওপরই করতে হয়, যিনি ক্ষমতা ও ইচ্ছায় সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং যাঁর মুঠোয় গোটা মহাবিশ্ব। এটি কেবল আল্লাহরই গুণ। আল্লাহর ওপর ভরসা করার পুরস্কার হলো তাঁর ভালোবাসা পাওয়া। আল্লাহ নবীজি (সা.)-কে আদেশ দিয়ে বলেছেন, ‘অতঃপর আপনি কোনো বিষয়ে কৃতসংকল্প হলে আল্লাহর ওপর ভরসা করুন। যারা আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৫৯)

তবে তাওয়াক্কুল মানে আল্লাহর ওপর ভরসা করে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা নয়। বরং সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করার পর ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়াকেই প্রকৃত তাওয়াক্কুল বলা হয়। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে যদি আমরা এই গুণটি অর্জন করতে পারি, তবে আমাদের ইহকাল ও পরকাল—উভয়ই হবে সাফল্যমণ্ডিত।


দৈনিক জনপদের খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক: লিমা ইয়াসমিন
নির্বাহী সম্পাদক : সাইফুল ইসলাম খান
বার্তা সম্পাদক : এস টি শাহিন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনপদের খবর
আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল কীভাবে করতে হয়, এর গুরুত্ব কী
0:00 0:00
1.0x