শেষ দিনে জয়ের জন্য দরকার ছিল ১১৫ রান। হাতে ছিল ৫ উইকেট। উস্টারশায়ারের জয়ের পথ তখন বেশ পরিষ্কারই মনে হচ্ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ একের পর এক আঘাতে বদলে দিলেন ম্যাচের চিত্র। দিনের শুরুতে, মাঝের সেশনে এবং শেষ দিকে- গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ৩ উইকেট নিয়ে কেন্টকে ৮৪ রানের দারুণ জয় এনে দেন হাসান মাহমুদ। দুই ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়ে ম্যাচের অন্যতম নায়ক বাংলাদেশী এই পেসার। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ডিভিশন টু-এর ম্যাচে সেন্ট লরেন্স গ্রাউন্ডে প্রথম ইনিংসে কেন্ট ২৩৮ রানে অলআউট হয়। এরপর উস্টারশায়ার তাদের প্রথম ইনিংসে থামে ২১৭ রানে। কেন্ট দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৫৮ রান করলে জয়ের জন্য ৩৮০ রানের লক্ষ্য পায় উস্টারশায়ার। তৃতীয় দিন শেষে উস্টারশায়ারের রান ছিল ৩ উইকেটে ৮৪। শেষ দিনে তাদের সামনে ছিল আরো ২৯৬ রান। অ্যাডাম হোস ও ব্রেট ডি’অলিভেইরা শুরুটা ভালোই করেন। দুজনের ৭৬ রানের জুটি কেন্টকে চাপে ফেলেছিল। সেখানেই প্রথম আঘাত হাসানের। দিনের প্রথম ওভারেই হোসকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান তিনি। ৩৮ রান করে থামেন উস্টারশায়ারের ব্যাটার। এরপর ডি’অলিভেইরার সাথে জুটি বাঁধেন উইকেটকিপার-ব্যাটার হেনরি কালেন। দুজন মিলে যোগ করেন ৮৬ রান। দলকে দুই শ’ পেরিয়ে নেয়া এই জুটিও কেন্টের জন্য বড় বাধা হয়ে উঠেছিল। আবারো সেই বাধা সরান হাসান। দুর্দান্ত ডেলিভারিতে কালেনের অফ স্টাম্প উড়িয়ে দেন তিনি। ৪৫ রান করে ফেরেন কালেন। তবু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন পুরোপুরি কেন্টের হাতে আসেনি। ডি’অলিভেইরার সাথে এবার জুটি গড়েন ম্যাথু ওয়েট। তাদের জুটিতে উস্টারশায়ারের রান পৌঁছে যায় ৫ উইকেটে ২৬৫-এ। জয় থেকে তখন মাত্র ১১৫ রান দূরে দলটি। এরপর শুরু হয় পতন। ৬৪ রানের জুটি ভাঙেন কিথ ডাজন। এরপর টানা ২ বলে ২ উইকেট নিয়ে কেন্টকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার। চা-বিরতির সময় উস্টারশায়ারের রান ছিল ৭ উইকেটে ২৮৩। বিরতির পর নতুন বল হাতে ফেরেন হাসান। প্রথম দিকেই নিচু হয়ে আসা বলে বেন অ্যালিসনকে এলবিডব্লিউ করে নিজের তৃতীয় উইকেট তুলে নেন তিনি। শেষ ব্যাটার অ্যাডাম ফিঞ্চকে ফিরিয়ে উস্টারশায়ারের ইনিংস গুটিয়ে দেন ম্যাট মিল্নস। শেষ পাঁচ উইকেট মাত্র ৩০ রানের মাঝে হারিয়ে ২৯৫ রানে অলআউট হয় উস্টারশায়ার। ফলে ৮৪ রানের জয় পায় কেন্ট। এক প্রান্ত আগলে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেন ব্রেট ডি’অলিভেইরা। ২২১ বল খেলে ১২টি চারসহ ১০৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। কিন্তু তার লড়াকু সেঞ্চুরিও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেনি। হাসানের ম্যাচটি ছিল দুই ইনিংসেই কার্যকর বোলিংয়ের দৃষ্টান্ত। প্রথম ইনিংসে ৬৮ রানে ৪ উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১ রানে নেন আরো ৩ উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট নিয়ে কেন্টের জয়ের অন্যতম প্রধান নায়ক বাংলাদেশের এই পেসার। ম্যাচে ম্যাট মিল্নস নেন ৬ উইকেট, আর ডাজনের শিকার ৫টি। অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে কাউন্টিতে ফিরেই হাসানের এমন পারফরম্যান্স বিশেষ তাৎপর্যের। এর আগে জুনে কাউন্টিতে নিজের প্রথম ম্যাচেই ৯ উইকেট নিয়ে কেন্টকে জিতিয়েছিলেন তিনি। পরের ম্যাচে নিয়েছিলেন আরো ৩ উইকেট। এরপর জাতীয় দলের ব্যস্ততায় জিম্বাবুয়ে সফর ও অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরাও হন হাসান। এবার কাউন্টিতে ফিরে আবারো দেখালেন তার সামর্থ্য। এই জয়ে ডিভিশন ওয়ান-এ ওঠার লড়াইয়ে বড় সুবিধা পেল কেন্ট। ম্যাচ শেষে ১১ খেলায় তাদের পয়েন্ট ১৫৪। তিনে থাকা কেন্ট এখন দ্বিতীয় স্থানে থাকা নর্থ্যাম্পটনের মাত্র এক পয়েন্ট পেছনে। শীর্ষে থাকা ডারহামের পয়েন্ট ২১০। মৌসুমে কেন্টের বাকি আর তিন ম্যাচ- ডার্বিশায়ার, ল্যাঙ্কাশায়ার ও গ্লস্টারশায়ারের বিপক্ষে। ডিভিশন টু থেকে দুটি দল ওঠে ডিভিশন ওয়ানে। ফলে শেষ তিন ম্যাচে প্রমোশনের দৌড়ে কেন্টের জন্য হাসান মাহমুদের বোলিং হয়ে উঠতে পারে আরো বড় অস্ত্র।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।