অনুমোদনহীন তিন চাকার যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে ট্রাফিক পুলিশের নিরন্তর প্রচেষ্টার পরও জনভোগান্তি কমছে না। মূলত সিন্ডিকেটের সঙ্গে লিয়াজোঁ রক্ষা করে সড়কে চলছে লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার আধিপত্য। নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গেলেই চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে প্রশাসনকে। সুনামগঞ্জ শহরের এমন বাস্তবতাই উঠে এসেছে ট্রাফিক পুলিশ-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যে। সড়কে ট্রাফিক পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চোখের সামনেই ট্রাফিক আইন অমান্য করে অবৈধ গাড়ি চলাচল করলেও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন। এ কারণে মাত্র ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে এক ঘণ্টারও বেশি। পৌরসভা ও ইজিবাইক সমিতি সূত্রে জানা যায়, শহরে চলাচলের জন্য এক হাজার ৩০০টি ইজিবাইক এবং এক হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার বৈধ অনুমোদন রয়েছে। অথচ বাস্তবে দৈনিক তিন থেকে চার হাজার বৈধ-অবৈধ যানবাহন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। অনুমোদনহীন এসব যানবাহনের একটি বড় অংশ চালাচ্ছে ১৪ থেকে ১৬ বছরের কিশোররা। অদক্ষ চালক ও বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। আহত হচ্ছেন সাধারণ পথচারী ও শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন সকাল ৯টার পর থেকে জেলা শহরমুখী মানুষের চাপ বাড়ে। কালীবাড়ি, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ওয়েজখালী, নতুন বাসস্ট্যান্ড, মল্লিকপুর, কাজীর পয়েন্ট ও ষোলঘর এলাকায় যানজট এখন নিত্যদিনের রূপ নিয়েছে। আলফাত স্কয়ার, পৌর মার্কেট, কোর্ট পয়েন্টের মূল সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো হয়। পথচারীরা বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটছেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ, এমনকি জরুরি সেবার অ্যাম্বুলেন্সও জ্যামে আটকে থাকছে। হতাশ শহরবাসীর স্পষ্ট দাবি– অবিলম্বে লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক উচ্ছেদ; সড়কের অবৈধ স্ট্যান্ড বন্ধ এবং কঠোরভাবে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ। জেলা ইজিবাইক সমিতির সভাপতি সোহেল আহমদ চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের কোনো সদস্য চাঁদাবাজ নয়। অবৈধ গাড়ির বিষয়ে কমিটির সভায় বারবার বলেছেন। এক হাজার ৩০০ ইজিবাইক ও এক হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার বাইরে বাকি সবই অবৈধ। ট্রাফিক পুলিশের টিআই সুশান্ত চাকমা সিন্ডিকেটের চাপের কথা স্বীকার করে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ছোট শহরে অতিরিক্ত গাড়ির কারণে আমরাও অতিষ্ঠ। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট বা অভিযান চালিয়ে অবৈধ গাড়ি আটক করলেই ওপর মহল থেকে ফোন আসে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। ‘এসব গাড়ি ধরা যাবে না’– এমন চাপে ট্রাফিক পুলিশ বলতে গেলে ইজিবাইক সিন্ডিকেটের কাছে অসহায়।”
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।