ঢাকা    শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক জনপদের খবর

বিএনপির অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডারকে নির্বাচন কমিশনে বসানো হয়েছে: জামায়াত আমির

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো ভালো লক্ষণ দেখছেন না বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপির একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডারকে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, ‘একজন দলীয় লোককে কেন আনতে হবে, এখানে এ প্রশ্ন জনগণের। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, যিনি জাতীয় সংসদের শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকেন, তিনি তাঁর এলাকায় গিয়ে বলেছেন, যে জায়গায় বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হবেন না, সেখানে কোনো সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হবে না। এটা লজ্জার বিষয়। তার মানে আগে থেকেই জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে। এ রকম ভয়ভীতি এবং দলভীতির মধ্য দিয়ে নির্বাচন হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’ শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘তবে হ্যাঁ, নির্বাচনের আগে আমরা অবশ্যই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাইব। যখন সেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নিশ্চয়তা পাব, তখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। আমরা কারও স্কেপগোট হতে চাই না। আমরা জনগণের অধিকার নিয়ে লড়তে চাই। আমরা চাই, জনগণ যাকে ভোট দিয়ে পছন্দ করবে, সেই ক্ষমতায় যাবে।’ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সৌভাগ্যক্রমে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পেয়েছি। তিনি সব মন্ত্রণালয়ে সার্ভিস দেন। তাঁর প্রাইম ডিউটি হচ্ছে নিজের মন্ত্রণালয়ের লুক আফটার করা। না তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করলেন, না তিনি সমাজে শৃঙ্খলা ফিরাতে পারলেন। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলার দৃশ্যমান কোনো উন্নতি নেই।’ শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যাঁরাই পালন করেন এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো। এই আগের চেয়ে ভালো হওয়ার মাপকাঠি কী, তা আজ পর্যন্ত বুঝতে পারলাম না।’ সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘সংবাদপত্র সমাজের আয়না। তাদের আয়নায় সমাজের দোষত্রুটি ধরা পড়ে।’ শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালে সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণ হয়েছিল, রাজনীতির ওপরও আঘাত এসেছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্র বাদ দিয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে সময় সরকার সব সংবাদমাধ্যম পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। চারটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া আর কোনো সংবাদমাধ্যমের অস্তিত্ব রাখা হয়নি। মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলীর সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলীর সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ। এর আগে আজ সকাল ৮টার দিকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শফিকুর রহমানকে অভ্যর্থনা জানান জেলা ও কেন্দ্রীয় জামায়াতের নেতারা। সকাল ৯টার দিকে তিনি মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে পৌঁছালে জেলার পক্ষ থেকে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

বিএনপির অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডারকে নির্বাচন কমিশনে বসানো হয়েছে: জামায়াত আমির