ঢাকা    শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক জনপদের খবর

ভুতুড়ে বিলে ক্ষোভ: মিটার রিডারকে ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখলেন গ্রাহকেরা

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে এক মাসের ব্যবধানে বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার অভিযোগে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক মিটার রিডারকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের কালিতলা মধুপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গ্রাহকদের অভিযোগ, জুলাই মাসে যে মিটারে বিল এসেছিল ২০০ টাকা, আগস্টে একই মিটারে বিল এসেছে তিন হাজার টাকার বেশি। এমন অস্বাভাবিক বিলের অভিযোগ ওই গ্রামের আরও শতাধিক গ্রাহকের। বিল সংশোধনের জন্য বারবার অফিসে গিয়েও সমাধান না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিলের তথ্য সংগ্রহ করতে গ্রামে যান ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের মিটার রিডার সবুজ। এ সময় আকবর আলী নামের এক গ্রাহক তাঁকে আটকে রাখেন। পরে তাঁর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আরও গ্রামবাসী জড়ো হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলেও প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় বাগ্‌বিতণ্ডা চলে। পরে অতিরিক্ত বিল সংশোধন ও ত্রুটিপূর্ণ মিটার বদলে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে রাতে মিটার রিডারকে ছেড়ে দেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আকবর আলী বলেন, ‘আমার জবাব লাগবে। গত মাসে ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে, এ মাসে কীভাবে ৩৭০ ইউনিট হলো? কোনো লাইট বাড়াইনি, ফ্যানও বাড়াইনি। বিল পরিশোধ করব না। পল্লী বিদ্যুতের লোকজনকে এর জবাব দিতে হবে।’ গ্রামের আরেক বাসিন্দা মাহফুজ আলম বলেন, ‘গত মাসে বিল ছিল ২০০ টাকা, এ মাসে ১ হাজার ৯০০ টাকা। এত গড়মিল কীভাবে হয়? আমরা অশিক্ষিত মানুষ, আমাদের ভুল হতে পারে। পল্লী বিদ্যুতের লোকজন শিক্ষিত, তাঁরা কেন ভুল করবেন?’ ঘটনাস্থলে থাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের এনফোর্সমেন্ট কো-অর্ডিনেটর নির্মল রায় বলেন, পুলিশের সহযোগিতায় গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিল সংশোধন এবং ত্রুটিপূর্ণ মিটার বদলে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে তাঁরা মিটার রিডারকে ছেড়ে দেন। তিনি আরও বলেন, ‘আগে দায়িত্বে থাকা মিটার রিডার মাঠে না এসে ঘরে বসে মিটার রিডিং দিয়েছিলেন। তাঁকে বহিষ্কার করে নতুন একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনিই গ্রামে বিলের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। আমরা বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত। কয়েক মাসের মধ্যে মিটার রিডিং এবং অফিসে জমা থাকা রিডিং যাচাই করে অতিরিক্ত বিলগুলো সমন্বয় করা হবে।’ বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. হামিদুল হক বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বিল-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।’

ভুতুড়ে বিলে ক্ষোভ: মিটার রিডারকে ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখলেন গ্রাহকেরা