ঢাকা    শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক জনপদের খবর

জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আটক, ৬ ঘণ্টা পর মুচলেকায় মুক্তি

বরিশাল জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেনকে আটকের পর মুচলেকায় মুক্তি পেয়েছেন বলে জানা গেছে। তথ্যমতে, স্বেচ্ছাচারিভাবে বাস টার্মিনাল পরিচালনা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বুধবার টানা ৫ ঘণ্টা কোতোয়ালি থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে রাত ১১টার দিকে মুক্তি পান তিনি।  মোশারফ বরিশাল মহানগর-সদর আসনে বিএনপির সাংসদ মজিবর রহমান সারওয়ারের মেজ ভাই। তবে পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, মোশারফকে আটক করা হয়নি। নথুল্লাাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল কীভাবে পরিচালিত হয়- এসব জানতে তাকে থানায় আনা হয়েছিল।  বাস টার্মিনাল সূত্র নিশ্চিত করেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মোশারফ নগরের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ নেন। তিনি টার্মিনালের দণ্ডমুন্ডের কর্তা হিসাবে আবির্ভূত হন। একই সময়ে সরোয়ারের ছোট ভাই অহেদুর রহমান জেলা টেম্পো মালিক সমিতির সভাপতি এবং জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি হয়েছেন সরোয়ারের শ্যালক সৈয়দ সাইদুল ইসলাম মামুন। ফলে বরিশালে পরিবহন সেক্টরের বড় অংশ সরোয়ার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে। বিএনপির কোনো পদে না থেকেও স্বজনরা সরোয়ারের পরিচয়ে পরিবহন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করছে- এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপিতে চাপা ক্ষোভও রয়েছে।  সূত্রগুলো জানায়, মোশারফকে গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে থানায় ডেকে নেওয়া হয়। রাত ১১টা পর্যন্ত তিনি থানায় ছিলেন। টার্মিনালের সবগুলো অভিযোগের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে এরই মধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে অনুরোধ আসে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। পরিস্থিতির মুখে ‘ভবিষ্যতে আর অভিযোগ আসবে না’- এমন মুচলেকা দিয়ে তিনি মুক্তি পান।  এ বিষয়ে মোশারফ জানান, তিনি শুক্রবার বিকেল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত কোতোয়ালী থানায় ছিলেন। আছরসহ পরবর্তী সব নামাজ থানায় আদায় করেছেন। সম্প্রতি টেম্পো শ্রমিক ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং এর জেরে সাময়িক বাস ধর্মঘট- এসব বিষয়ে নিয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা হয়। ভাই-ভাই নিয়ন্ত্রিত সংগঠনের মধ্যে (মোশারফ-অহেদ) আর যেন বিরোধ না হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সে আহ্বান জানানো হয়েছে।  কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলমের ভাষ্যমতে, মোশারফকে আটক কিংবা ও মুচলেকায় মুক্তির কোনো ঘটনা হয়নি। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সার্বিক বিষয় সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি বিকেল থেকে থানায় ছিলেন এবং রাত ১১টার আগে চলে যান।  প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে মোশারফকে সেনাবাহিনী বাস টার্মিনাল থেকে তুলে গিয়েছিলো। শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে ঢুকে আরজু মৃধা নামক একজন শ্রমিককে মারধর করায় উত্তেজনার সৃষ্টি হলে সেখানে সেনাবাহিনী গিয়েছিলো। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার শর্তে একঘণ্টা পর তিনি সেনাক্যাম্প থেকে মুক্তি পান।

জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আটক, ৬ ঘণ্টা পর মুচলেকায় মুক্তি