ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক জনপদের খবর

হরমুজে জাহাজে হামলা, প্রশ্নের মুখে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। এ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান।  তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নিরাপদে চলাচলের অনুমতি পাওয়া একটি জাহাজে হামলার ঘটনা ইসলামাবাদের কূটনৈতিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা সামনে এনেছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, দুই পক্ষকে আলোচনায় বসাতে পারলেও সমুদ্রে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষমতা পাকিস্তানের নেই। গত ৩০ অক্টোবর হরমুজ প্রণালির কাছে কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) জাহাজ ‘আল মায়েদা’ হামলার শিকার হয়। জাহাজটি পাকিস্তানের জন্য গ্যাস নিয়ে যাচ্ছিল।  ব্লুমবার্গকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় জাহাজটির নিরাপদ চলাচলের অনুমতি আদায় করা হয়েছিল। এর আগে একই ব্যবস্থায় কয়েকটি জাহাজ নিরাপদে প্রণালিটি অতিক্রম করেছিল। তবে হামলার জন্য কে দায়ী, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কেউ হামলার দায়ও স্বীকার করেনি। কাতার এ ঘটনার তদন্ত করছে।  এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দেওয়া নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এর মধ্যেই দোহায় ইরান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পরিকল্পনার সময়সীমা সাত দিন থেকে কমিয়ে দুই দিন করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল, উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো এবং ইরান ও ওমানের নির্ধারিত নতুন নৌপথের স্বীকৃতিসহ কয়েকটি শর্ত দিয়েছে তেহরান।  অন্যদিকে, স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধার না হলে বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন। চলতি বছর পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। জুনে অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক তৈরির আলোচনার আয়োজন করে ইসলামাবাদ। অক্টোবরে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির দুই দফায় তেহরান সফর করেন। কিন্তু পাকিস্তানের জ্বালানি নিরাপত্তাও হরমুজ পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। দেশটির আমদানি করা এলএনজির প্রায় পুরোটাই এ প্রণালি দিয়ে আসে। অক্টোবরে কাতার থেকে মাত্র দুটি এলএনজি চালান পেয়েছে পাকিস্তান, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল আটটি। কাতারএনার্জি সরবরাহে বলবৎ থাকা ‘ফোর্স ম্যাজিউর (অনিবার্য পরিস্থিতি)’ ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যস্থতার বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে পাকিস্তানের উচিত কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের মতো দেশকে নিয়ে যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ব্যবস্থা গড়ে তোলা। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির উৎস বাড়ানো এবং সমুদ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে বাস্তবসম্মত অবস্থান নেওয়া জরুরি। সূত্র: দ্য ডিপ্লোম্যাট

হরমুজে জাহাজে হামলা, প্রশ্নের মুখে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা