ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক জনপদের খবর

ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণে মিলবে বিনা খরচে ইতালি যাওয়ার সুযোগ

ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা প্রশিক্ষণ নিয়ে বিনা খরচে ইতালি যাওয়ার বিশেষ সুযোগ তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশিদের জন্য। শিগগিরই স্বল্পপরিসরে এ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের এই মডেলকে জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চায় সরকার। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর হোটেল রিজেন্সিতে ‘ইতালিতে দক্ষ অভিবাসনের জন্য ভাষা, নাগরিক ও পেশাগত প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ইতালি দূতাবাস ও তাদের আন্তর্জাতিক সহযোগী অংশীদাররা যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। মাহ্দী আমিন বলেন, ইতালীয় ভাষা শিক্ষা, সুনির্দিষ্ট কর্মদক্ষতা অর্জন এবং পেশাগত আচরণ ও মূল্যবোধ বিকাশে প্রশিক্ষণের এই মডেল অত্যন্ত কার্যকর। সরকার এই পূর্ণাঙ্গ কাঠামো জাতীয় পর্যায়ে বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দিতে এবং বিভিন্ন স্তরে বাস্তবায়ন করতে চায়। তিনি বলেন, দক্ষ, নিয়মতান্ত্রিক ও কম খরচে বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা নতুন সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ। দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিদেশে কাজের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। এতে অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং সম্ভব হলে শূন্য খরচে বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যাবে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগীদের অভিজ্ঞতা ও সাফল্য কাজে লাগিয়ে ইতালির এই প্রশিক্ষণ মডেল অন্যান্য দেশ ও কর্মক্ষেত্রেও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে নতুন নতুন ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রেও এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যাবে। ইতালি সরকারের উদ্যোগটি জাতীয় নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দিতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। প্রবাসীদের জন্য চালু হবে প্রবাসী কার্ড প্রবাসী কর্মীদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের আদলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সার্বিক সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বোয়েসেলসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে দক্ষ অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ইতালির সমাজ ও মূলধারার অর্থনীতিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভূমিকা রয়েছে। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। প্রবাসীদের প্রতিটি অর্জনের পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ ও সফলতার গল্প। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর মেধা ও যোগ্যতার ঘাটতি নেই। মূল চ্যালেঞ্জ হলো সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া, দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। তিনি জানান, নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তরুণদের তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সেমিনারে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ইতালীয় ভাষা, আধুনিক কাজের দক্ষতা ও পেশাগত নিয়মকানুন শিখছেন। এটি সরকারের তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের বাস্তব প্রতিফলন। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইতালীয় ভাষাসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ভাষা কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা কারিকুলামে নিয়মিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে দক্ষ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। ধাপে ধাপে তাদের ইতালি যাওয়ার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। প্রশিক্ষণ শেষে কোটার বাইরেও ইতালি যাওয়ার সুযোগ উল্লেখ্য, ইতালির অভিবাসন আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী, দেশটির শ্রম ও সামাজিক নীতি মন্ত্রণালয় অনুমোদিত প্রস্থান-পূর্ব প্রশিক্ষণ প্রকল্প সম্পন্ন করা দক্ষ কর্মীরা প্রতিবছর ঘোষিত ‘ফ্লো ডিক্রি’র নির্ধারিত কোটার বাইরেও বৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশের সুযোগ পান। এই প্রশিক্ষণে রয়েছে প্রাথমিক ইতালীয় ভাষা শিক্ষা, ইতালির নাগরিকত্ব ও সমাজ সম্পর্কে ধারণা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মক্ষেত্রের পেশাগত দক্ষতা অর্জন। চলমান হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতের ‘টেস্ট’ প্রকল্পের আওতায় ফ্রন্টিয়ার স্কিলসের মাধ্যমে নির্বাচিত সম্ভাব্য অভিবাসীরা এবং ‘ফরম্যাজিঅনে’ টেক্সটাইল প্রকল্পের শিক্ষার্থীরা সেমিনারে অংশ নেন। সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মিশন প্রধান ড. লরা টম বন্ডে, ইতালি দূতাবাসের উপ-মিশন প্রধান ডা. ফেদেরিকো জামপারেল্লি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের উপপ্রধান বাইবা জারিনা এবং ইতালি দূতাবাসের অভিবাসন উপদেষ্টা জুসেপ্পে দি জিওভান্নি।

ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণে মিলবে বিনা খরচে ইতালি যাওয়ার সুযোগ