ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক জনপদের খবর

ইউরোপে আগামী এক মাস তেল রপ্তানি করবে না সৌদি আরব, নেপথ্যে কী

আগামী মাসে ইউরোপের অন্তত দুই তেল শোধনাগার-গ্রাহককে কোনো অপরিশোধিত তেল (ক্রুড) না দেওয়ার কথা জানিয়েছে সৌদি আরামকো। দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির আওতায় তাদের এই তেল দেওয়ার কথা ছিল। সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে এ তথ্য জানিয়েছেন। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে হামলার পর সিদ্ধান্তের বিষয়টি সামনে এল। ইউরোপের ক্রেতারা সাধারণত ‘টার্ম কনট্রাক্ট’-এর আওতায় সৌদি আরবের কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনেন। এসব চুক্তির মাধ্যমে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেলের সরবরাহ নিশ্চিত থাকে। কিন্তু আগামী মাসে এসব সরবরাহ হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সূত্রগুলো নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কথা বলেছেন। তাদের ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের সব ক্রেতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। মন্তব্য জানতে সৌদি আরামকোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি। আগামী মাসে সৌদি তেলের সরবরাহ না থাকায় ইউরোপীয় ক্রেতাদের বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের প্রয়োজন আরও বাড়বে। এরই মধ্যে পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ওরলেন এসএ বিভিন্ন চালান সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এর ফলে আঞ্চলিক তেলের গ্রেডগুলোর দামও বেড়েছে। ইউরোপে বাস্তবে সরবরাহ হওয়া তেলের ব্যারেলের বেঞ্চমার্ক হিসেবে ব্যবহৃত ‘ডেটেড ব্রেন্ট’ এ সপ্তাহে একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১৩০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। গত সপ্তাহে ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবকে তার ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ করে দিতে হয়। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত এক ব্যক্তি বুধবার জানিয়েছেন, আরামকো কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটির আংশিক কার্যক্রম চালু করার চেষ্টা করছে এবং ছয় সপ্তাহের মধ্যে পুরো সক্ষমতায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আরামকোকে এশিয়ার গ্রাহকদের জন্য বিরল এক পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ‘স্পট’ ভিত্তিতে তেলের কার্গো দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। স্পট চুক্তি বলতে তাৎক্ষণিক সরবরাহের জন্য করা চুক্তিকে বোঝায়। পাইপলাইনটি আবার চালু হওয়ার পর আরামকো ইউরোপের শোধনাগারগুলোকেও একই ধরনের শর্তে তেল দেওয়ার প্রস্তাব দেয় কি না, এখন ব্যবসায়ীরা সেদিকে নজর রাখবেন। এশিয়ার জন্য ওই তেল সরবরাহ করা হচ্ছে পারস্য উপসাগর দিয়ে। এর ফলে আরামকো আবারও সংঘাতপূর্ণ হরমুজ প্রণালির দিকে ঝুঁকেছে। চলতি সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটি কয়েক কোটি ব্যারেল তেল এমন গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করেছে, যারা হরমুজ প্রণালির ঠিক বাইরে গিয়ে ওই তেল সংগ্রহ করবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের সময় নিয়মিত জাহাজে হামলার কারণে যাত্রাপথটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় আরামকো এত দিন এই রুট অনেকটাই এড়িয়ে চলেছিল। তবে পারস্য উপসাগরের দিকে তেলের সরবরাহ বাড়লেও এতে ইউরোপের শোধনাগারগুলোর সংকট খুব একটা কমবে না। কারণ ইউরোপের ক্রেতাদের কাছে এসব তেল পৌঁছাতে হলে জাহাজগুলোকে হয় লোহিত সাগর দিয়ে যেতে হবে, যেখানে ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধারা সৌদি জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে, অথবা আফ্রিকা ঘুরে প্রায় পাঁচ সপ্তাহের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। ইউরোপের শোধনাগারগুলো সাধারণত মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর সিদি কেরির মাধ্যমে সৌদি ক্রুড সংগ্রহ করে। এই বন্দরটি একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে ইউরোপের ওইসিডি–ভুক্ত দেশগুলো সৌদি আরব থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে।

ইউরোপে আগামী এক মাস তেল রপ্তানি করবে না সৌদি আরব, নেপথ্যে কী