ঢাকা    শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক জনপদের খবর

আচমকা সাংবাদিকের বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান: তদন্তে কমিটি

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম সাজুর বাড়িতে মাদক উদ্ধারের নামে অভিযানের বিষয়ে তদন্ত কমিটি করেছে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন। রৌমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান কোনো খারাপ উদ্দেশে (ইলমোটিভ) ওই অভিযান চালিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) আহ্বায়ক এবং রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সদস্যসচিব করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী রোববারের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেব নাথ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে দুই পুলিশ ও কয়েকজন আনসার সদস্য নিয়ে উপজেলার সবুজ পাড়ায় সাংবাদিক সাজুর বসতবাড়িতে মাদক উদ্ধারের অভিযান পরিচালনা করেন রৌমারীর সহকারী কমিশনার রাফিউর রহমান। তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ওই অভিযান পরিচালনার দাবি করলেও সাজুর বাড়ি তল্লাশি করে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাননি। তবে তল্লাশির নামে সাংবাদিকের বাড়িঘরের জিনিসপত্র তছনছ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সহকারী কমিশনার সাজুকে শায়েস্তা করতেই ওই অভিযান চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকসহ স্থানীয় সাংবাদিকেরা। সাংবাদিক সাজুর দাবি, ‘একজন নাগরিকের জমির নামজারি করে মাত্র তিন দিনের মাথায় কোনো নোটিশ অথবা শুনানি ছাড়াই তা বাতিল করেন এসি ল্যান্ড। এ নিয়ে গত বুধবার ফোনে তাঁকে প্রশ্ন করলে তিনি ক্ষেপে যান। আমাকে ফাঁসাতে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে তিনি আমার বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেছেন। এটা বেআইনি। ওই এসি ল্যান্ড রৌমারীতে যোগদানের পর থেকেই নানা বেআইনি কাজ করছেন। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে তাঁর বিরুদ্ধে হাজারো প্রমাণ মিলবে।’ রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল হাসান এসি ল্যান্ডের এমন অভিযানের বিষয়ে বলেন, ‘এসি ল্যান্ডকে সার বিতরণস্থলে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি পথিমধ্যে সাংবাদিক সাজুর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছেন। অভিযানের আগে তিনি আমাকে কিছু জানাননি। পরে জানতে পেরেছি।’ জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘সাংবাদিকের বাড়িতে অভিযান নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর মন্ত্রণালয় থেকে ফোন করে আমার কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়েছে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে রোববারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’ এসি ল্যান্ডের প্রতিশোধ পরায়ণতা সম্পর্কের প্রশ্নে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সে কোনো ইলমোটিভ নিয়ে সাংবাদিকের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তাঁর মধ্যে কিছুটা দুষ্টুমি থাকতে পারে। তাঁর বিরুদ্ধে আগেও কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ জন্য ইতিমধ্যে তাঁকে বদলি করা হয়েছে। এখন তদন্ত প্রতিবেদন পেলে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেব। কর্তৃপক্ষ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’ প্রসঙ্গত, ভূমিসেবায় ঘুষ বাণিজ্যসহ ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা অভিযোগ ওঠায় এসি ল্যান্ড রাফিউর রহমানকে ইতিমধ্যে বদলি করা হয়েছে। তাঁকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় তিনি সাংবাদিক সাজুসহ রৌমারীর কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর ক্ষুদ্ধ ছিলেন। কর্মস্থল ত্যাগের আগে প্রতিশোধপরায়ণতা থেকে তিনি সাজুর বাড়িতে মাদক উদ্ধারের অভিযান চালিয়েছেন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকসহ জেলার সাংবাদিকেরা।

আচমকা সাংবাদিকের বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান: তদন্তে কমিটি