ঢাকা    শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক জনপদের খবর

বিরিয়ানি খেয়ে ফুড পয়জনিংয়ের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা শহরের মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হাজী বিরিয়ানি হাউজের খাবার খেয়ে গত চারদিনে শিশুসহ অন্তত ২৬ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিরিয়ানি খাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ক্রেতারা বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটের ব্যথায় আক্রান্ত হন। একই দোকানের খাবার খেয়ে একাধিক পরিবারের সকল সদস্য একসাথে অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রতিষ্ঠানটির খাদ্যের মান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বিকেলে আলমডাঙ্গার ওই দোকান থেকে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে নিয়ে যান ক্রেতারা। তা খাওয়ার পর মধ্যরাত থেকেই শুরু হয় শারীরিক অসুস্থতা। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে অসুস্থদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন জোড়গাছা গ্রামের মরিয়ম খাতুন (২৭) এবং তার দুই ছেলে তাওহিদ (২) ও তাওসিফ (৮)। রোয়াকুলি গ্রামের জিনারুল ইসলাম (৪৬), তার স্ত্রী পান্না খাতুন (৪২) ও ছেলে সাহেদ (১৩)। রাজাপুর গ্রামের জাহিদ হোসেনের স্ত্রী, মেয়ে জান্নাতুল শ্রাবণী (১৫) ও আত্মীয় সুবর্ণা খাতুন (২১)। চিলাভালকী গ্রামের সোনিয়া খাতুন (২২), সাবিনা খাতুন (৩২), জনি (১১) ও রনি (১৫)। এছাড়া হাপানিয়া, গৌরীহ্রদ ও খাসকররা গ্রামের শিরিনা খাতুন (৪০), নুসরাত জাহান (১৬), পারুলা বেগম (৪২), পরিছন নেছা (৪৫), আইভি খাতুন (২৩), জিসান (৫) ও মাত্র ১৩ মাস বয়সী শিশু জায়ান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরো অন্তত ছয়জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: ফারহানা ওয়াহিদ তানি জানান, ফুড পয়জনিংয়ের উপসর্গ নিয়ে অনেক রোগী ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন ও তাদের চিকিৎসা চলছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিক্রয়কেন্দ্র থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে রহস্যজনকভাবে খাবার রান্না করা হতো, যেখানে কাউকে ঢুকতে দেয়া হতো না। গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বা খাদ্য নিরাপত্তার কোনো প্রকার বাধ্যতামূলক অনুমোদন ছাড়াই কেবল একটি ট্রেড লাইসেন্স সম্বল করে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন হাজী বিরিয়ানি হাউজের মালিক মিজানুর রহমান। ঘটনার পর থেকে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি জানতে পেরে আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদী মঙ্গলবার বিকেলে দোকানটিতে অভিযান চালান। প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করার পাশাপাশি দ্রুত সব প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা কেবল সতর্কতায় সন্তুষ্ট নন; অনতিবিলম্বে লাইসেন্সহীন এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও খাবারের মান পরীক্ষার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিরিয়ানি খেয়ে ফুড পয়জনিংয়ের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা