রাশিয়ার নতুন ড্রোন যেভাবে বদলে দিচ্ছে আকাশ যুদ্ধ
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার সদর দপ্তরে আঘাত হেনেছে একটি রুশ ড্রোন। কিয়েভে কোনো সরকারি ভবনে সরাসরি ড্রোন হামলার ঘটনা এটিই প্রথম। আরেকটি ড্রোন প্রায় আঘাত করে বসেছিল প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিমানকে। বিমানটি তখন মলদোভা থেকে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ ছাড়া আরও শত শত ড্রোন হামলায় বিভিন্ন অস্ত্র গুদামে আগুন ধরে গেছে এবং ইউক্রেনের বন্দরগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ার নতুন জেটচালিত গেরান-৪ ও গেরান-৫ ড্রোন ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। এসব ড্রোন আগের প্রপেলারচালিত ড্রোনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি হারে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা এড়িয়ে যেতে পারছে। ফলে এগুলো এখন ইউক্রেনের জন্য বড় ধরনের নতুন হুমকি হয়ে উঠেছে।
রাশিয়ার ২০২২ সালের আগ্রাসনের পর থেকে দেশটির যুদ্ধক্ষেত্রের অগ্রগতি হয়েছে বিপুল মানবিক মূল্য ও সোভিয়েত আমলের সামরিক সরঞ্জামের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির বিনিময়ে। সেই বাস্তবতায় এই পরিবর্তনটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেন নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অনেক সাফল্য দেখালেও নতুন ড্রোনগুলো প্রমাণ করছে, রাশিয়াও বড় পরিসরে নতুন অস্ত্র তৈরি, উন্নত করা এবং দ্রুত মোতায়েন করতে সক্ষম।
মার্কিন থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ ফেলো কাটেরিনা বন্ডার বলেন, ‘তারা তাদের সব প্রচেষ্টা, সম্পদ, অর্থ ও মেধা এই একটি ব্যবস্থার পেছনে দিয়েছে। তারা নিয়মিত এগুলো উন্নত করছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষা করছে, যাতে প্রযুক্তিটিকে প্রায় নিখুঁত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়।’
গত ২৭ আগস্ট থেকে প্রায় একটানা জেটচালিত ড্রোনের হামলা চালিয়ে আসছে রাশিয়া। এর ফলে কিয়েভও এখন অনেকটা সম্মুখসারির শহরগুলোর প্রতিদিনের বাস্তবতার কাছাকাছি চলে এসেছে। দিনের বেলার হামলায় স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে, আর রাতে চলছে ব্যাপক ড্রোন হামলা। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, আগস্টে রাশিয়া রেকর্ড ২ হাজার ৮০০টি ড্রোন উৎক্ষেপণ করেছে। এই হামলার তীব্রতা বেড়েছে এমন এক সময়ে, যখন কিয়েভ রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও বাণিজ্যিক গুদামে দূরপাল্লার ড্রোন হামলার অভিযান চালিয়ে মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে।
গত বৃহস্পতিবার কিয়েভের হলোসিভস্কি জেলায় একটি রুশ ড্রোন একটি পেট্রল স্টেশনে গিয়ে আঘাত হানে। রাজধানীতে এ ধরনের হামলা এটাই প্রথম। পরদিন আরও দুটি ফিলিং স্টেশনে হামলায় দুজন নিহত হন। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এসব হামলাকে ‘ক্রমেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মতো হয়ে উঠছে’ বলে বর্ণনা করেছেন।
রাশিয়ার এই ড্রোন অভিযান এমন সময়ে জোরদার হয়েছে, যখন ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে মস্কোকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বহন করতে হচ্ছে। শুক্রবার যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা প্রধান স্যার রিচার্ড নাইটন বলেন, রাশিয়ার সামরিক হতাহতের সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে। তিনি বলেন, নিহত ও আহতদের মধ্যে ১৪ লাখই ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ইউক্রেনের মাত্র ২ শতাংশ ভূখণ্ড দখলের জন্য ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
রাশিয়ার সম্মুখসারির অগ্রগতি থমকে যাওয়ার পাশাপাশি যুদ্ধের খরচ দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন ড্রোনের সাফল্য মস্কোর জন্য বিরল একটি ইতিবাচক দিক। পশ্চিমা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের এবং ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রাশিয়ার ড্রোন সক্ষমতা এতটাই উন্নত হয়েছে যে ইরান এ বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য মস্কোর কাছে উন্নত গেরান ড্রোন চেয়েছে।
গেরান মূলত ইরানে নকশা করা শাহেদ ড্রোনের উন্নত সংস্করণ। রাশিয়া ২০২৩ সালে প্রথম এসব ড্রোন তৈরি শুরু করে। প্রথম প্রজন্মের গেরান-১ সর্বোচ্চ ২০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে পারে এবং এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার। অন্যদিকে জেটচালিত গেরান-৫, যা রাশিয়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথম ব্যবহার করেছে বলে ধারণা করা হয়, ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে। এটি ৯০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বহন করে ১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে।
গেরান-৪-এ মূল ড্রোনের তুলনায় আরও বেশি বায়ুগতিশীল কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। আর গেরান-৫-এর কাঠামো নতুন করে তৈরি করা হয়েছে, যা অনেকটা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো। তবে পরিবর্তন শুধু গতি ও আকৃতিতে সীমাবদ্ধ নয়। পুরোনো গেরান ড্রোনগুলোর নির্দেশনা ব্যবস্থা ছিল বেশ প্রাথমিক। নতুন সংস্করণগুলোতে থার্মাল ক্যামেরা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত লক্ষ্য নির্ধারণ ব্যবস্থা, রাশিয়ায় তৈরি জ্যামিং প্রতিরোধী অ্যান্টেনা এবং চীনে তৈরি মেশ রেডিও নেটওয়ার্ক মডেম যুক্ত করা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উপদেষ্টা সেরহি বেস্ক্রেস্তনভ বলেন, ‘রুশ অপারেটর ২ থেকে ৫ কিলোমিটার উচ্চতায় ড্রোনটি উড়ান, লক্ষ্য দেখতে পান, ক্যামেরার মাধ্যমে সেটিকে লক করেন এবং এরপর শাহেদটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আক্রমণ করে।’ তিনি বলেন, বর্তমানে ইউক্রেনে হামলা চালানো প্রায় সব জেটচালিত ড্রোনেই এ ধরনের ক্যামেরা রয়েছে।
কেন্দ্রীয়ভাবে উৎপাদনের ব্যবস্থা থাকায় ক্রেমলিন ড্রোনগুলো দ্রুত পরিবর্তন করতে পারছে, যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া তথ্য কাজে লাগাতে পারছে এবং নতুন মডেল দ্রুত মোতায়েন করতে পারছে। এসব ড্রোনের দাম রাশিয়ার আগের বিমান হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর তুলনায় অনেক কম।
মস্কোভিত্তিক থিংকট্যাংক সেন্টার ফর অ্যানালাইসিস অব স্ট্র্যাটেজিস অ্যান্ড টেকনোলজিসের পরিচালক রুসলান পুখভ বলেন, ‘রাশিয়া একেবারে শূন্য থেকে বড় একটি নতুন উৎপাদন লাইন তৈরি করতে পেরেছে, কারণ প্রযুক্তিগত দিক থেকে এটি ট্যাংক তৈরির চেয়ে অনেক সহজ। ট্যাংক তৈরিতে বিপুল, আলাদা ধরনের এবং ব্যয়বহুল মেশিন টুল প্রয়োজন হয়।’
গণহারে উৎপাদন ড্রোনগুলোর উদ্ভাবনকেও দ্রুত করেছে। পুখভ বলেন, ‘সামরিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সাধারণত যে দীর্ঘ পরীক্ষার সময় লাগে, তারা মূলত সেটি বাদ দিয়েছে। প্রতিটি পরিবর্তন সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থায় যুক্ত করে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। কোনো কিছু কাজ না করলে উৎপাদন বন্ধ বা পরিবর্তন না করে সেখানেই তা ঠিক করে নেওয়া হয়েছে।’
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহানাতের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন বর্তমানে জেটচালিত ড্রোনের মাত্র প্রায় ৬০ শতাংশ ভূপাতিত করতে পারছে। অন্য সংস্করণের ড্রোনের বিরুদ্ধে ইউক্রেন সাধারণত ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ সফল হয়। সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইউক্রেনকে যুদ্ধবিমান ‘অত্যন্ত ব্যাপকভাবে’ ব্যবহার করতে বাধ্য করেছে বলে জানান ইহানাত। কিছু পাইলটকে ঝুঁকিপূর্ণ এক কৌশল ব্যবহার করে যুদ্ধবিমানের নিজস্ব কামান দিয়ে ড্রোন ভূপাতিত করতে হচ্ছে।
এই চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে এমন সময়ে, যখন ইউক্রেন অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটে রয়েছে। ফলে দেশটি ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে। গ্রীষ্মকাল থেকে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দৈনিক হার প্রকাশ করাও বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন মডেলগুলোর ব্যাপক ব্যবহার ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশটির ড্রোন নির্মাতাদেরও বিস্মিত করেছে। তাদের ধারণা ছিল, মস্কো তুলনামূলক কম শক্তিশালী গেরান-৩-এর দিকে বেশি মনোযোগ দেবে। এই ড্রোনের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। এর বদলে রাশিয়া আরও দ্রুতগতির ও দীর্ঘপাল্লার গেরান-৪ এবং গেরান-৫ ব্যবহারে এগিয়ে গেছে।
জনপ্রিয় স্টিং ড্রোন প্রতিরোধক তৈরি করা ইউক্রেনীয় প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ড হর্নেটসের এক প্রতিনিধি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘এই পরিকল্পনাগুলো কীভাবে বাস্তবে রূপ নেবে, তা অনুমান করা কঠিন ছিল।’ ওয়াইল্ড হর্নেটস এখন জেটচালিত এসব ড্রোন প্রতিহত করার জন্য একটি নতুন ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধী ড্রোনের কাজ শেষ করছে। শিগগিরই এর গণউৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, নতুন গেরান ড্রোন ভূপাতিত করার উপায় বের করতে ইউক্রেনের ৬৭টি কোম্পানি কাজ করছে।
পুরোনো রুশ ড্রোনগুলোর বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সফলভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ফলে মস্কো এখন তাদের চালকবিহীন বিমানকে এমন এক পথে নিয়ে যাচ্ছে, যাকে যুদ্ধ বিশ্লেষক কনরাড মুজিকা ‘ক্রুজিফিকেশন’ বা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো করে তোলার প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মুজিকা পোল্যান্ডভিত্তিক যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী বিশ্লেষণধর্মী প্রতিষ্ঠান রোচান কনসাল্টিংয়ের পরিচালক। নতুন ড্রোনগুলো এমন গতি ও উচ্চতায় উড়ছে, যাতে ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যকার পার্থক্য ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মুজিকা বলেন, ‘শিগগিরই আমরা সম্ভবত এসব ড্রোনে স্টেলথ বা রাডার এড়িয়ে চলার সক্ষমতা দেখতে পাব। এর ফলে এগুলো তৈরি, সংগ্রহ ও ব্যবহারের খরচ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে এগুলো ধ্বংস করাও আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।’
নতুন ড্রোনগুলো আগের মডেলের তুলনায় বেশি ব্যয়বহুল এবং এগুলো উৎক্ষেপণ করাও কঠিন। তবে এগুলো এখনো রাশিয়ার ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেনে ব্যবহৃত ক্যালিবর ও খ-১০১ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় সস্তা। ফলে মস্কো আরও বিস্তৃত পরিসরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারছে।
ক্রেমলিন এখন এসব ড্রোনের পাশাপাশি কম খরচের বান্দেরোল ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করছে। এগুলো দিয়ে গুদাম, সরবরাহ ও লজিস্টিক কেন্দ্র এবং ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলোতে নতুন করে হামলা চালানো হচ্ছে। কিয়েভভিত্তিক ইনফরমেশন রেজিস্ট্যান্স গ্রুপের সামরিক বিশ্লেষক ওলেক্সান্দর কোভালেঙ্কোর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরুতে একটি বান্দেরোল ওদেসার দিকে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২০ মিটার উচ্চতা দিয়ে উড়ে যায়।
ক্রেমলিনপন্থী সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রুশ সুখোই-২৫ যুদ্ধবিমানও ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নাগালের বাইরে থেকে গেরান-৫ ড্রোন নিক্ষেপ করতে পারে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের অধীন ন্যাশনাল ইকোনমি অ্যান্ড পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন একাডেমির সামরিক বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার স্তেপানোভ বলেন, ‘আমরা ব্যয়বহুল অস্ত্র থেকে এমন অস্ত্রের দিকে একটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি, যেগুলো ব্যাপক হারে উৎপাদন করা যায়, নির্ভুল এবং বহুমুখী। এসব অস্ত্র সম্মিলিত ও দলবদ্ধ হামলার অংশ হিসেবে যুদ্ধ মিশন পরিচালনা করতে সক্ষম।’
নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক ফ্যাবিয়ান হফম্যান বলেন, বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য চীনা জেট ইঞ্জিনের সরবরাহে আঘাত করা গেলে পশ্চিমা দেশগুলো নতুন গেরান ও বান্দেরোলের উৎপাদন ধীর করে দিতে পারে।
তবে রাশিয়া যদি বর্তমান উৎপাদন ও হামলার গতি বজায় রাখতে পারে এবং বিদেশি প্রপালশন বা ইঞ্জিন প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে পারে, তাহলে দেশটি ‘খুব দ্রুত বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বল্পমূল্যের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা হয়ে উঠতে পারে’ বলে মন্তব্য করেন হফম্যান।
রাশিয়ার নতুন গেরান ড্রোনগুলো ভূপাতিত করার কার্যকর উপায় ইউক্রেন খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধের ভার আবারও মস্কোর দিকে চলে যেতে পারে বলে মনে করেন পুখভ। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন নিজের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে না। আর এটি ড্রোনের মতো নয়। আপনি এগুলো গ্যারেজে বসে তৈরি করতে পারবেন না।’