বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে জানিয়েছেন, ঢাকাকে কখনোই ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে না। ব্রাসেলস সবসময় আলোচনার জন্য উন্মুক্ত।
এর মানে এই নয় যে, আমরা যা খুশি মেনে নেব, তবে আমরা কখনোই এমন কোনো শর্ত দেব না যেখানে ওয়াশিংটনের বিপরীতে ব্রাসেলসকে বেছে নিতে হয়। আমরা ওয়াশিংটনের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত ‘ডিকাব টকে’ তিনি এ কথা বলেন।
এক প্রশ্নের উত্তরে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি মানে হলো– এখানে আমাদের কোম্পানিগুলোর জন্য এবং ইউরোপে আপনাদের কোম্পানিগুলোর জন্য একটি সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। এটি একটি নীতিগত বিষয়।
এর বাইরে বাকি সিদ্ধান্তগুলো বাংলাদেশ সরকার নেবে। অন্যান্য দেশ বাংলাদেশকে কীভাবে দেখছে বা তারা চাপ দিয়ে বা ভয় দেখিয়ে কিছু করাতে চায় কি না– তা তাদের বিষয়। কিন্তু আমরা ইউরোপে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমরা মুক্ত ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় বিশ্বাস করি এবং আমরা এটিকেই উৎসাহিত করতে চাই। এটি কোনো নির্দিষ্ট একটি ক্ষেত্রের জন্য নয়, বরং সব ক্ষেত্রের জন্যই প্রযোজ্য।
জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, আমি যখন আপনাদের মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করি, আমি কখনোই বলি না যে– ‘যদি আপনারা কালকের মধ্যে এয়ারবাস না কেনেন, তবে আমরা এই পদক্ষেপ নেব।’ আমরা এভাবে কাজ করি না। আমরা সত্যিকারের অংশীদারত্বে বিশ্বাস করি।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে কিছু ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে, যা আমাদের সম্পর্কের অন্যান্য ক্ষেত্রের চেয়ে অনেক বড়। আমরা ইতোমধ্যে ৬১টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছি, যেখানে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। আমাদের বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং এটি একটি বড় বিষয়। তাই সমান সুযোগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা আমাদের থাকতে হবে।
এতে আরও বক্তব্য দেন ডিকাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস।
মতামত