ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক জনপদের খবর

ট্রাম্পকে উপেক্ষা: রুশ তেল শোধনাগারে হামলায় ‘বাধ্য হয়েছেন’ জেলেনস্কি



ট্রাম্পকে উপেক্ষা: রুশ তেল শোধনাগারে হামলায় ‘বাধ্য হয়েছেন’ জেলেনস্কি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ ও অনুরোধ উপেক্ষা করে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে আবারও ড্রোন হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ৩০ দিনের জন্য এসব হামলা বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাতে সম্মতি দেয়নি কিয়েভ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে তার দেশ।

রবিবার (১ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, শনিবার রাতে নিঝনি নভগোরোদ অঞ্চলের কস্তোভো তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যায়। এর আগে সামারা অঞ্চলে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান রোসনেফটের আরেকটি শোধনাগারেও বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে দাবি করে, হোয়াইট হাউসের চাপে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে ইউক্রেন। তবে কিয়েভের কর্মকর্তারা ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্টকে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনারের দেওয়া ৩০ দিনের জন্য তেল শোধনাগারে হামলা স্থগিত রাখার প্রস্তাবে ইউক্রেন কখনোই সম্মতি দেয়নি।

এদিকে, রুশ কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, কিয়েভ এখন প্রকাশ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছা উপেক্ষা করছে। গত শুক্রবার থেকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা আরও জোরদার করেছে ইউক্রেন।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার জন্য ইতোমধ্যে জেলেনস্কিকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে গত মাসে রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করে নিয়েছে তার প্রশাসন।

ট্রাম্প প্রশাসনের অসন্তোষ ও সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ এড়াতে জেলেনস্কি রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলার বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার রস্তভ অঞ্চলে একটি প্রতিরক্ষা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সফল হামলা চালিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ক্ষেপণাস্ত্র ও প্যান্টসির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তৈরি করে।

জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের শহরগুলোর জ্বালানি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে দূরপাল্লার ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নির্দয় হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে ইউক্রেনকে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। রাজধানী কিয়েভের একটি গুরুত্বপূর্ণ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সেখানে দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘রুশ হামলার তীব্রতা অনেক বেশি। আমাদের কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের যে ঘাটতি রয়েছে, রাশিয়া তার সর্বোচ্চ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে।’

‘হেরে যাচ্ছে রাশিয়া’

যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও রেকর্ড ছাড়িয়েছে বলে দাবি করেছেন জেলেনস্কি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু অক্টোবর মাসেই ৫৪ হাজার ৪০০ রুশ সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর এক মাসে এটি সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি।

তিনি আরও দাবি করেন, গত মাসে ইউক্রেন ৯৬ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটার এলাকা রুশ দখলমুক্ত করেছে। একই সময়ে রাশিয়ার দখলে যাওয়া এলাকার পরিমাণ ছিল ৮৫ দশমিক ৮ বর্গকিলোমিটার। অর্থাৎ, রাশিয়ার দখল করা এলাকার চেয়ে ১০ দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটার বেশি এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে ইউক্রেন। জেলেনস্কির ভাষায়, ‘রাশিয়া হেরে যাচ্ছে।’

এদিকে, ইউক্রেনের ওলেস্কি শহরে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে নেওয়া ছয় দিনের স্থানীয় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ গতকাল রবিবার শেষ হয়েছে। সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেটস জানিয়েছেন, ২৭ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই যুদ্ধবিরতির আওতায় শত শত পরিবার তাদের স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। উভয় পক্ষই এই মানবিক উদ্যোগকে সফল বলে ঘোষণা করেছে।

সূত্র: গার্ডিয়ান বিডি-প্রতিদিন/এমই

বিষয় : হামলা ট্রাম্প উপেক্ষা রুশ তেল শোধনাগার বাধ্য হয়েছেন জেলেনস্কি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

দৈনিক জনপদের খবর

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


ট্রাম্পকে উপেক্ষা: রুশ তেল শোধনাগারে হামলায় ‘বাধ্য হয়েছেন’ জেলেনস্কি

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ ও অনুরোধ উপেক্ষা করে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে আবারও ড্রোন হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ৩০ দিনের জন্য এসব হামলা বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাতে সম্মতি দেয়নি কিয়েভ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে তার দেশ।

রবিবার (১ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, শনিবার রাতে নিঝনি নভগোরোদ অঞ্চলের কস্তোভো তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যায়। এর আগে সামারা অঞ্চলে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান রোসনেফটের আরেকটি শোধনাগারেও বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে দাবি করে, হোয়াইট হাউসের চাপে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে ইউক্রেন। তবে কিয়েভের কর্মকর্তারা ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্টকে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনারের দেওয়া ৩০ দিনের জন্য তেল শোধনাগারে হামলা স্থগিত রাখার প্রস্তাবে ইউক্রেন কখনোই সম্মতি দেয়নি।

এদিকে, রুশ কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, কিয়েভ এখন প্রকাশ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছা উপেক্ষা করছে। গত শুক্রবার থেকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা আরও জোরদার করেছে ইউক্রেন।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার জন্য ইতোমধ্যে জেলেনস্কিকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে গত মাসে রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করে নিয়েছে তার প্রশাসন।

ট্রাম্প প্রশাসনের অসন্তোষ ও সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ এড়াতে জেলেনস্কি রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলার বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার রস্তভ অঞ্চলে একটি প্রতিরক্ষা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সফল হামলা চালিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ক্ষেপণাস্ত্র ও প্যান্টসির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তৈরি করে।

জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের শহরগুলোর জ্বালানি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে দূরপাল্লার ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নির্দয় হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে ইউক্রেনকে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। রাজধানী কিয়েভের একটি গুরুত্বপূর্ণ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সেখানে দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘রুশ হামলার তীব্রতা অনেক বেশি। আমাদের কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের যে ঘাটতি রয়েছে, রাশিয়া তার সর্বোচ্চ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে।’

‘হেরে যাচ্ছে রাশিয়া’

যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও রেকর্ড ছাড়িয়েছে বলে দাবি করেছেন জেলেনস্কি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু অক্টোবর মাসেই ৫৪ হাজার ৪০০ রুশ সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর এক মাসে এটি সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি।

তিনি আরও দাবি করেন, গত মাসে ইউক্রেন ৯৬ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটার এলাকা রুশ দখলমুক্ত করেছে। একই সময়ে রাশিয়ার দখলে যাওয়া এলাকার পরিমাণ ছিল ৮৫ দশমিক ৮ বর্গকিলোমিটার। অর্থাৎ, রাশিয়ার দখল করা এলাকার চেয়ে ১০ দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটার বেশি এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে ইউক্রেন। জেলেনস্কির ভাষায়, ‘রাশিয়া হেরে যাচ্ছে।’

এদিকে, ইউক্রেনের ওলেস্কি শহরে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে নেওয়া ছয় দিনের স্থানীয় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ গতকাল রবিবার শেষ হয়েছে। সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেটস জানিয়েছেন, ২৭ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই যুদ্ধবিরতির আওতায় শত শত পরিবার তাদের স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। উভয় পক্ষই এই মানবিক উদ্যোগকে সফল বলে ঘোষণা করেছে।

সূত্র: গার্ডিয়ান বিডি-প্রতিদিন/এমই


দৈনিক জনপদের খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক: লিমা ইয়াসমিন
নির্বাহী সম্পাদক : সাইফুল ইসলাম খান
বার্তা সম্পাদক : এস টি শাহিন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনপদের খবর
ট্রাম্পকে উপেক্ষা: রুশ তেল শোধনাগারে হামলায় ‘বাধ্য হয়েছেন’ জেলেনস্কি
0:00 0:00
1.0x