দৈনন্দিন জীবনে অজু করার পর নানা প্রয়োজনে অনেকে পানাহার করেন, আবার কেউ ধূমপানও করে থাকেন। স্বাভাবিক খাবারের কারণে অজু ভাঙে না—এটি সবার জানা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অজুর পর বিড়ি বা সিগারেট খেলে কি অজু ভেঙে যায়? নাকি সেই অজুতেই নামাজ আদায় ও পবিত্র কোরআন স্পর্শ করা যাবে? শরিয়তের দৃষ্টিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান ও মাসআলা রয়েছে।
ইসলামিক ফিকাহশাস্ত্র ও ফুকাহায়ে কেরামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অজু ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট কারণ মূলত ৭টি:
সংক্ষেপে বলতে গেলে, শরীর থেকে কোনো নাপাক বের হওয়া বা বের হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার মাধ্যমেই কেবল অজু ভাঙে। যেহেতু ধূমপানের মাধ্যমে শরীর থেকে কোনো নাপাক বস্তু বের হয় না, তাই নিছক বিড়ি-সিগারেট খাওয়ার কারণে অজু ভাঙে না। (রদ্দুল মুহতার: ১ / ১৪৪; ফাতায়ায়ে আলমগিরি: ১ / ১২)
অজু না ভাঙলেও ধূমপানকে ইসলামে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ এতে একদিকে যেমন বিপুল আর্থিক অপচয় হয়, অন্যদিকে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়। জেনেশুনে নিজের শরীর ও সম্পদ ধ্বংস করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা নিজের হাতে নিজেদের ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না।’ (সুরা বাকারা: ১৯৫)
ধূমপানের কারণে মুখ ও শরীর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়, যা অন্যের কষ্টের কারণ হয়। হাদিসে অন্যকে কষ্ট দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের ওপর ইমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে বা আশপাশের মানুষকে কষ্ট না দেয়। (সহিহ বুখারি)
বিড়ি-সিগারেটের দুর্গন্ধ নিয়ে নামাজ পড়লে নামাজ আদায় হয়ে যাবে। ধূমপানে অজু ভাঙবে না বিধায় ওই অজুতেই নামাজ হয়ে যাবে, তবে দুর্গন্ধযুক্ত অবস্থায় নামাজে দাঁড়ানো অনুচিত।
মুখে তীব্র দুর্গন্ধ নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করা নিষেধ। পেঁয়াজ-রসুনের দুর্গন্ধের চেয়েও বিড়ি-সিগারেটের গন্ধ বেশি তীব্র হয়। রাসুল (সা.) পেঁয়াজ-রসুন খেয়ে দুর্গন্ধ নিয়ে মসজিদের ধারে কাছে যেতে নিষেধ করেছেন, কারণ এতে মানুষ ও ফেরেশতারা কষ্ট পায়। (সহিহ মুসলিম)
সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস একবারে ছাড়তে না পারলে কেবল এই অজুহাতে নামাজ বা জামাতে যাওয়া ছেড়ে দেওয়া যাবে না। বরং ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। একই সঙ্গে মসজিদে যাওয়ার বা নামাজ পড়ার আগে ভালোমতো মেসওয়াক বা ব্রাশ করে, কিংবা কুলি করে মুখ ও শরীরের দুর্গন্ধ দূর করে নিতে হবে।
মতামত