বাংলাদেশের টেস্ট ম্যাচ দেখে গতকাল সোমবার সিডনি থেকে দুজন বয়োজ্যেষ্ঠ নারী-পুরুষ এসে পৌঁছান ম্যাকাই শহরে। হোটেল বুকিং, অনলাইনে ম্যাচের তৃতীয় দিনের টিকিটও কেটে রেখেছিলেন তারা। তাদের একজন খুব আক্ষেপ করে বলছিলেন, ‘দেশের খেলা মাঠ থেকে দেখা হলো না। দুদিনেই খেলা শেষ হয়ে গেল।’ অশীতিপর ওই ব্যক্তির কণ্ঠ খুব করুণ শোনাচ্ছিল। পাশ থেকে তাঁর স্ত্রী সান্ত্বনা দেন, ‘থাক, কষ্ট পেয়ো না; অন্য সময় দেখতে পাবে। কখনও খারাপ খেলবে, কখনও ভালো খেলবে। ছেলেরা তো চেষ্টা করে, এবার পারেনি। সামনে পারবে।’
নাজমুল হোসেন শান্তরা ভালো ব্যাটিং করলে তৃতীয়-চতুর্থ দিনও খেলা মাঠে থাকতে পারত। প্রিয় দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখে খুশি হতেন অনেকে। দুদিনে টেস্ট হেরে যাওয়ায় সে পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসীদের কাছে আক্ষেপ হয়ে থাকল ম্যাচটি। যদিও ম্যাকাইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার জন্য কোনো সুযোগ ছিল না। কারণ, পেস ও বাউন্সি উইকেট বানিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তাই এই হারের পরও বাংলাদেশকে সম্মান দেখিয়েছে দেশটি। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানান, সেরা সম্মান পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়।
হাবিবুল বাশারের মতে, ‘আমি ২০০০ সাল থেকে নিয়মিত খেলেছি। অফিসিয়ালি অনেক দেশে সফর করেছি। এই দেশে এবার যে সম্মান পেলাম, তা আগে কখনও পাইনি। সাধারণত অস্ট্রেলিয়ানরা যেভাবে অভিনন্দন জানিয়েছে, তা অবিশ্বাস্য। দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচটি দর্শকদের সঙ্গে বসে দেখেছি। দর্শক এসে বলেছেন, ‘তোমরা ভালো ক্রিকেট দল। অস্ট্রেলিয়ানরা বেশি ভালো হয়ে গেছে, তোমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছ। এই ম্যাচ হারের পর কেউ কিন্তু বলেনি, তোমরা সাদামাটা ক্রিকেট দল। বাংলাদেশের জন্য যেটা অনেক কিছু।’
অস্ট্রেলিয়া থেকে এই সম্মান নিয়েই তো দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায় ২৩ বছর পর টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়ে ভালোই করেছে বাংলাদেশ। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ডারউইন থেকে ম্যাকাই এসেছিলেন শান্তরা। সিরিজ নির্ধারণী দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচটি খেলা হয়েছে পেস ও বাউন্সি উইকেটে, যেখানে প্রথম ইনিংসে আগে ব্যাট করা চ্যালেঞ্জিং ছিল। সতেজ পিচে বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৬৪ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৫ রানে অলআউট হয়েছে।
এরপরও সিরিজ ড্র করতে পারা বিশাল অর্জন বলে মনে করেন হাবিবুল বাশার, ‘অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে এসে আমরা সিরিজ ট্রফি ভাগাভাগি করেছি। এটি আমাদের সাফল্য। উপমহাদেশের সব দল এসে কিন্তু সিরিজ ড্র করে না। সিরিজ জেতার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। বাস্তবে যেটি খুব কঠিন। আমার কাছে মনে হয়েছে, এই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ানরা কোনো সুযোগই দেয়নি। একদম সিমিং কন্ডিশন বানিয়েছে। আমি একটু অবাকই হয়েছি।’
জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক জানান ব্যাটিংটা ভালো হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা সম্ভব হতো, ‘অস্ট্রেলিয়াতে এসে শুধু বাংলাদেশ না, এ রকম অনেক দল সংগ্রাম করে। ইংল্যান্ডের মতো দল পার্থে দুদিনে হেরেছে। আমরা প্রথম ইনিংসে দেড়শ রান করতে পারলে লড়াই হতো। সব মিলিয়ে যদি বলেন, আমি ডারউইন টেস্টকে এগিয়ে রাখতে চাই।’
মতামত