বাংলাদেশের অর্থনীতি, গ্রামীণ জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি কৃষি। স্বাধীনতার পর থেকে উন্নত ফসলের জাত, সেচ, যান্ত্রিকীকরণ এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে কৃষি উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বিশেষত উচ্চফলনশীল ধানের জাতের সঙ্গে সুষম সার প্রয়োগ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণ এবং সীমিত কৃষিজমির সর্বোত্তম ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাসায়নিক সার এখনো অপরিহার্য।
তবে উৎপাদন বৃদ্ধির এ সাফল্য ধরে রাখতে হলে মাটির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ও উর্বরতা রক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ও ভারসাম্যহীন সার প্রয়োগ, জৈব পদার্থের ঘাটতি এবং মাটির পরীক্ষা ছাড়া সার ব্যবহারের প্রবণতা কৃষির স্থায়িত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তাই রাসায়নিক সার সম্পূর্ণ বন্ধ করা নয়, বরং বিজ্ঞানসম্মত, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের কৃষির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশে কৃষিজমির পরিমাণ সীমিত, অথচ খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন, উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের সম্প্রসারণ এবং নিবিড় চাষাবাদের কারণে মাটি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পুষ্টি উপাদান অপসারিত হচ্ছে। এসব পুষ্টির ঘাটতি পূরণে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি, এমওপিসহ বিভিন্ন রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়।
রাসায়নিক সার দ্রুত উদ্ভিদের পুষ্টি সরবরাহ করে এবং সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করলে ফলন ও উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। সরকারি ভর্তুকি সারকে কৃষকের কাছে তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য করেছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনের জন্য শুধু সার প্রয়োগের পরিমাণ বাড়ানো যথেষ্ট নয়। কোন জমিতে কোন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি রয়েছে, কী পরিমাণ সার প্রয়োজন এবং কখন ও কীভাবে তা প্রয়োগ করতে হবে—এসব বিষয় বিবেচনা করা জরুরি।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) Fertilizer Recommendation Guide-2024 ফসল, মাটির বৈশিষ্ট্য ও কৃষি-পরিবেশ অঞ্চলভিত্তিক সার সুপারিশের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। ফলে একই ধরনের সার সব জমিতে একই মাত্রায় প্রয়োগের পরিবর্তে স্থান ও ফসলভিত্তিক সুপারিশ অনুসরণ করা প্রয়োজন।
মাটির উর্বরতা কেবল নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়ামের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে না। মাটির জৈব পদার্থ, অম্লত্ব, গঠন, পানি ধারণক্ষমতা এবং উপকারী অণুজীবের কার্যক্রমও এর গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক। মাটির জৈব পদার্থ পুষ্টি ধরে রাখতে, মাটির গঠন উন্নত করতে, পানি সংরক্ষণ করতে এবং উপকারী জীবের কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে।
বিএআরসির সার সুপারিশমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলে মাটির জৈব পদার্থের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। তবে অঞ্চল ও ফসলের ধরনভেদে এ অবস্থার পার্থক্য রয়েছে। অতএব, দেশের সব মাটির অবস্থা একইভাবে অবনতি হচ্ছে—এমন সাধারণীকরণ না করে স্থানভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
দীর্ঘদিন ধরে ফসলের অবশিষ্টাংশ জমি থেকে সরিয়ে ফেলা, জৈবসার কম ব্যবহার করা এবং নিবিড় চাষাবাদের ফলে অনেক জমিতে জৈব পদার্থের ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার প্রয়োগ করলে পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং কিছু মাটিতে অম্লত্ব বাড়তে পারে। এর ফলে উদ্ভিদের পুষ্টি গ্রহণ ব্যাহত হওয়া, মাটির উপকারী জীবের কার্যক্রম পরিবর্তিত হওয়া এবং দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
মাটির উর্বরতা কমে গেলে কৃষককে একই ফলন ধরে রাখতে অতিরিক্ত উপকরণ ব্যবহার করতে হতে পারে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ে এবং কৃষকের নিট মুনাফা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করা শুধু পরিবেশগত নয়, কৃষকের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত বা অনুপযুক্ত ব্যবহার মাটি ও পানির দূষণের ঝুঁকি বাড়ায়। জমিতে প্রয়োগ করা নাইট্রোজেনের একটি অংশ ফসল গ্রহণ করে; অবশিষ্ট অংশের কিছু মাটির গভীরে চলে যেতে পারে, আবার কিছু বায়ুমণ্ডলে গ্যাস হিসেবে নির্গত হতে পারে। বৃষ্টির পানি ও সেচ প্রবাহের সঙ্গে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস জলাশয়ে পৌঁছলে পানিতে শৈবাল ও জলজ উদ্ভিদের অতিরিক্ত বৃদ্ধি ঘটতে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে।
বাংলাদেশের নদী, খাল, বিল ও হাওরনির্ভর জীবিকা বিবেচনায় এই ঝুঁকি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্দিষ্ট কোনো জলাশয়ে মাছের প্রজাতি হ্রাস বা বিলুপ্তির জন্য রাসায়নিক সারকে একক কারণ হিসেবে দায়ী করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রয়োজন। দূষণের পাশাপাশি আবাসস্থল পরিবর্তন, অতিরিক্ত আহরণ ও জলবায়ুগত পরিবর্তনও জলজ জীববৈচিত্র্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
ভূগর্ভস্থ পানিতে নাইট্রেটের মাত্রা বেড়ে গেলে তা পানীয় জলের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নাইট্রেট গ্রহণ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই কৃষিজমি ও পানীয় জলের উৎসের মধ্যে দূষণের সম্পর্ক পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। একই সঙ্গে সারের অবশিষ্টাংশকে সব ধরনের খাদ্য দূষণের একমাত্র কারণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়; খাদ্যে রাসায়নিক অবশিষ্টাংশের ঝুঁকি নির্ধারণে পৃথক পরীক্ষা ও প্রমাণ প্রয়োজন।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও সার ব্যবস্থাপনার ভূমিকা রয়েছে। নাইট্রোজেন সার ব্যবহারের পর মাটি থেকে নাইট্রাস অক্সাইড নির্গত হতে পারে, যা একটি শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করলে এ ধরনের নির্গমন বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সার ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি কৃষি উৎপাদন ও জলবায়ু প্রশমন—উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
রাসায়নিক সারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কৃষক এবং সরকারের জন্য অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে সার ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেলে আমদানি ব্যয় এবং সরকারি ভর্তুকির পরিমাণ বাড়তে পারে। ২০২৩ সালের মার্চে বিএআরসি আয়োজিত সারবিষয়ক নীতি সংলাপে গবেষকরা উল্লেখ করেছিলেন, সুষম সার ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এটি গবেষণাভিত্তিক সম্ভাবনার হিসাব; বাস্তবে কতটুকু সাশ্রয় হবে, তা সার ব্যবহারের বর্তমান ধরন, ফসল, অঞ্চল ও বাস্তবায়নের র্যকারিতার ওপর নির্ভর করবে।
কৃষকের ক্ষেত্রেও বেশি সার ব্যবহার মানেই বেশি লাভ নয়। কোনো পুষ্টি উপাদান প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রয়োগ করলে অতিরিক্ত ব্যয়ের তুলনায় উৎপাদন বৃদ্ধির সুফল নাও পাওয়া যেতে পারে। বিশেষত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের জন্য অপ্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যয় আর্থিক ঝুঁকি বাড়ায়। ফলে সার সুপারিশের লক্ষ্য শুধু সর্বোচ্চ ফলন অর্জন নয়, বরং লাভজনক ফলন নিশ্চিত করা এবং প্রতি একক সারের কার্যকারিতা বাড়ানো হওয়া উচিত।
মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে জৈব সার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। গোবর, কম্পোস্ট, ভার্মিকম্পোস্ট, ফসলের অবশিষ্টাংশ এবং উপযুক্ত জৈব বর্জ্য থেকে তৈরি সার মাটিতে জৈব পদার্থ ফিরিয়ে দেয়। এগুলো মাটির গঠন ও পানি ধারণক্ষমতা উন্নত করতে এবং পুষ্টি উপাদানের সরবরাহে সহায়তা করতে পারে।
তবে জৈব সার সবসময় রাসায়নিক সারের সম্পূর্ণ বিকল্প নয়। এর পুষ্টির পরিমাণ কাঁচামাল, প্রস্তুত প্রণালি ও সংরক্ষণের ওপর নির্ভর করে। অপর্যাপ্তভাবে পচানো জৈব বর্জ্য বা দূষিত কাঁচামাল ব্যবহার করলে নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই মানসম্মত জৈব সার উৎপাদন, নিরাপদ ব্যবহার এবং পুষ্টিমান যাচাই নিশ্চিত করা জরুরি।
এক্ষেত্রে সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনা কার্যকর পন্থা। এতে মাটির পরীক্ষার ফল, ফসলের পুষ্টি চাহিদা এবং স্থানীয় উপকরণের প্রাপ্যতা বিবেচনা করে জৈব সার, রাসায়নিক সার ও প্রয়োজন অনুযায়ী জৈবসার বা বায়োফার্টিলাইজার ব্যবহার করা হয়। এতে একদিকে রাসায়নিক সারের অপচয় কমানো যায়, অন্যদিকে মাটির জৈব পদার্থ ও পুষ্টির ভারসাম্য উন্নত করা সম্ভব।
ডাল জাতীয় ফসলের আবাদ, শস্যপর্যায় পরিবর্তন, সবুজ সার ব্যবহার, ফসলের অবশিষ্টাংশ জমিতে ফিরিয়ে দেওয়া এবং সংরক্ষণমূলক চাষাবাদও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক। এসব পদ্ধতি অঞ্চলভিত্তিকভাবে সম্প্রসারণ করতে হবে, যাতে কৃষক একই সঙ্গে উৎপাদন, মুনাফা ও মাটির স্থায়িত্বের সুফল পান।
টেকসই সার ব্যবস্থাপনার প্রথম শর্ত হলো মাটির প্রকৃত পুষ্টি অবস্থা জানা। এজন্য কৃষকদের নিয়মিত মাটি পরীক্ষা এবং পরীক্ষার ফল অনুযায়ী সার ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মাটি ও পুষ্টিবিষয়ক তথ্য এবং বিএআরসির ফসলভিত্তিক সার সুপারিশ এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিতে পারে।
বিএআরসি, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক কৃষি পরামর্শ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। কৃষকের কাছে সহজবোধ্য মোবাইলভিত্তিক নির্দেশনা, ইউনিয়ন পর্যায়ে মাটি পরীক্ষার সুবিধা এবং কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সরাসরি পরামর্শ পৌঁছে দিতে হবে। তবে ডিজিটাল পরামর্শের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
এ জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে।
প্রথমত, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ফসল ও অঞ্চলভিত্তিক সার সুপারিশ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মাটি পরীক্ষার খরচ ও সময় কমিয়ে কৃষকের কাছে সেবা সহজলভ্য করতে হবে। তৃতীয়ত, সার বিক্রেতা ও কৃষি উপকরণ ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ এবং মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে হবে। চতুর্থত, জৈব সার উৎপাদন, মান যাচাই, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে হবে। পঞ্চমত, সার ভর্তুকি নীতিকে এমনভাবে উন্নত করতে হবে, যাতে সারের সুষম ব্যবহার, মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণে প্রণোদনা সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বিত গবেষণা বাড়ানো প্রয়োজন। প্রিসিশন ফার্মিং, উন্নত সার প্রয়োগ প্রযুক্তি এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে ন্যানোফার্টিলাইজারের মতো উদ্ভাবনের কার্যকারিতা স্থানীয় গবেষণার মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।
বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে রাসায়নিক সারের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অতিরিক্ত ও ভারসাম্যহীন ব্যবহার দীর্ঘ মেয়াদে মাটির স্বাস্থ্য, পানি, পরিবেশ এবং কৃষকের মুনাফার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রাসায়নিক সার পুরোপুরি বন্ধ করার পরিবর্তে এর বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহার, জৈব পদার্থের পুনরুদ্ধার এবং সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনার দিকে অগ্রসর হতে হবে। সরকার, গবেষক, কৃষি সম্প্রসারণকর্মী, সার ব্যবসায়ী ও কৃষকের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং লাভজনক উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব। আজকের লক্ষ্য শুধু বেশি ফসল উৎপাদন নয়; বরং এমন একটি কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা বর্তমান প্রজন্মের খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উর্বর মাটি, নিরাপদ পানি, সুস্থ পরিবেশ ও টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করবে। বিজ্ঞানভিত্তিক সার ব্যবস্থাপনাই হতে পারে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান পথ।
লেখক: অধ্যাপক, কৃষিব্যবসা ও বিপণন বিভাগ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
সুত্র: কালবেলা