হবিগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের ডাকে এ ধর্মঘট শুরু হয়। এতে জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
ধর্মঘটের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নারী, শিশু, বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীরা। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে বের হওয়া যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
সরেজমিন শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ধর্মঘটের কারণে সারি সারি বাস দাঁড়িয়ে রয়েছে। বন্ধ রয়েছে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ম্যাক্সিসহ বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহন। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছেন অনেক যাত্রী। কেউ কেউ বিকল্প ছোট যানবাহনে করে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার অনেকে বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে। ছোট ছোট যানবাহনে ভেঙে ভেঙে জেলা শহরে এলেও গন্তব্যে পৌঁছানোর কোনো নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না তারা।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, কয়েক দিন পরপর পরিবহন ধর্মঘটের কারণে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের বিরোধের কারণে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখা হচ্ছে। তারা এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।
করিম উল্লাহ নামের এক যাত্রী বলেন, সিলেটের একটি হাসপাতালে আমার ভাই ভর্তি রয়েছেন। তার কাছে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছি। কিন্তু বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখি কোনো বাস চলছে না। এখন কীভাবে সিলেটে যাব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম রিপন। তিনি জানান, তারা বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃবৃন্দের লোকজন শ্রীমঙ্গলে তাদের এসএমএস পরিবহনের কাউন্টারে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার দাবি, শ্রীমঙ্গলের শ্রমিকেরাই বাস আটকে রেখেছেন এবং এ ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছে।
আব্দুর রহিম রিপন বলেন, বিষয়টি সমাধান করতে হলে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে।