ফিফা সভাপতি নির্বাচনের আগে সদস্যদেশগুলোর সমর্থন ধরে রাখতে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্ব ফুটবলের বাতাসে অন্তত এমনই গুঞ্জন। আসছে ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে ২১১ সদস্য সংস্থাকে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ফিফা সভাপতি। তবে কত অর্থ দেওয়া হবে, তা চূড়ান্ত নয়। ইনফান্তিনো বিরোধীরা অবশ্য এটিকে নির্বাচনের আগে ফিফা সভাপতির টোপ হিসেবেই দেখছেন ।
ছয়টি মহাদেশীয় কনফেডারেশনের প্রধানদের কাছে পাঠানো চিঠিতে ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘ফিফার নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়িত্বশীলভাবে যতটা বেশি অর্থ দেওয়া সম্ভব, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত তহবিলের বরাদ্দের পক্ষে আমি।’ তিনি অবশ্য নির্দিষ্ট কোনো অঙ্কের প্রতিশ্রুতি দেননি।
এর আগে উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার শেফেরিন ও কনক্যাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি ফিফার ২১১ সদস্য সংস্থার প্রত্যেককে ২০২৭ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চার বছরে ১ কোটি ডলার করে দেওয়ার দাবি জানান। এএফসিও একই ধরনের অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।
অর্থ বিতরণের এই আলোচনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইনফান্তিনো নিজেই বড় বিতর্কের মধ্যে। বিশ্বকাপ ও অন্যান্য বড় প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গঠন এবং এর অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে সেই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করা হয়। পরিকল্পনাটির উদ্দেশ্য ছিল ফুটবলে আরও বিনিয়োগের জন্য অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহ করা; এমনটাই বলে আসছেন ইনফান্তিনো।
কিন্তু এফএফই পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক থামেনি। চলতি মাসের শুরুতে ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ও ফিফার সহসভাপতি ডেবি হিউইট এ-সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশের দাবি জানান এবং পরিকল্পনাটির স্বাধীন পর্যালোচনার আহ্বান জানান।
এদিকে এফএফই নিয়ে ফিফা ও উয়েফার বিরোধ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি আদালতে দেওয়া নথিতে ফিফা অভিযোগ করেছে, এফএফই-সংক্রান্ত নথি পাওয়ার জন্য উয়েফার আইনি উদ্যোগ একটি ‘ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রচারণা’। ফিফার দাবি, আগামী বছরের সভাপতি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যেই উয়েফার এই উদ্যোগ।
ফিফা আরও দাবি করেছে, উয়েফা ‘হয়রানির উদ্দেশ্যে’ এবং ‘অসৎ উদ্দেশ্যে’ নথি চাওয়ার চেষ্টা করছে। ইনফান্তিনো ব্যক্তিগতভাবে এফএফই পরিকল্পনা থেকে লাভবান হতে চেয়েছিলেন—উয়েফার এমন বক্তব্যকেও ‘মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছে ফিফা। উয়েফা অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এরই মধ্যে আগামী বছরের মার্চে চতুর্থবারের মতো ফিফা সভাপতি পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন ইনফান্তিনো। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর।