গাইবান্ধায় এক নারীর গোসলের গোপনে ধারণ করা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলার প্রধান আসামি মো. জাহাঙ্গীর হাসানকে (৩৬) রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এসআরবি-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতার জাহাঙ্গীর হাসান গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের বাগুড়িয়া গ্রামের মো. মোখলেছুর রহমানের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী মো. সাইফুল আলমের (৫২) স্ত্রীর গোসলের দৃশ্য গোপনে মোবাইল ফোনে ধারণ করেন অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর। পরবর্তীতে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার ছবিগুলো মুছে ফেলার অনুরোধ জানালে জাহাঙ্গীর ক্ষিপ্ত হয়ে আরও অশ্লীল ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এমনকি ভিকটিমের ছবির সঙ্গে বাদীর ছবি বিকৃতভাবে যুক্ত করে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।
গত ৩ জুলাই দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ভিকটিমের মোবাইল ফোনে কল করে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন জাহাঙ্গীর। চাঁদার এই টাকা না দিলে ছবিগুলো বিভিন্ন পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী মো. সাইফুল আলম গত ৯ জুলাই গাইবান্ধা সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর: ১৮)।
মামলা দায়েরের পর থেকেই ছায়া তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে এসআরবি-১৩ (গাইবান্ধা ক্যাম্প) এবং এসআরবি-১ (উত্তরা, ঢাকা)।
অভিযানে ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানাধীন সেক্টর-৮ এর উত্তরা সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারের ১ নম্বর গেটের সামনে থেকে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হাসানকে গ্রেফতার করা হয়।
এসআরবি-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাইবার অপরাধ, পর্নোগ্রাফি, হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধ দমনে এসআরবির এমন অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।