নাগেশ্বরীতে সারের দাবিতে বামনডাঙ্গা, বেরুবাড়ী, রামখানা ইউনিয়নে বিক্ষোভ করেছে কৃষক। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। জানা যায়, সারের জন্য সকাল থেকে শতশত কৃষক অপেক্ষা করতে থাকে বেরুবাড়ী বাজারে ডিলার নুর মোহাম্মদ, বামনডাঙ্গা আমতলা বাজারে আদম আলী ও নাখারগঞ্জ বাজারে লাভলু মণ্ডলের গোডাউনের সামনে। দীর্ঘক্ষণ বেরুবাড়ী বাজারে ও নাখারগঞ্জ বাজারে ডিলাররা দোকান না খোলায় তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এ সময় ইউনিয়ন উপসহকারী কর্মকর্তাদেরও দেখা পাওয়া যায়নি সেখানে। এক পর্যায়ে কৃষকরা নাখারগঞ্জ বাজারে অটোরিকশায় মাইক বেঁধে মিছিল বের করে। পরে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। বেরুবড়ীতে গোডাউনের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে কৃষক। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন, নাগেশ্বরী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি), সহকারী পুলিশ সুপার পৃথকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বেরুবাড়ী ইউনিয়নের চর বেরুবাড়ী কপিলের চরের গোলাম মোস্তফা জানান, তিনি তিন বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছেন। তিন দিন ধরে ঘুরছেন সারের জন্য। আজও এসেছেন। কিন্তু সারের গোডাউন সকাল থেকে বন্ধ। দেখা নেই বিএস ও ডিলারের। এ অবস্থা চলতে থাকলে মাঝপথেই ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাবে। তাই সারের দাবিতে বিক্ষোভ করা ছাড়া তাদের কোনো উপায় নেই। মণ্ডলপাড়ার বাবু ইসলাম জানান, তিনি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিন দিন ধরে অটো না চালিয়ে সারের জন্য অপেক্ষা করে ফিরে যাচ্ছেন। প্রায় একইরকম কথা বলেন কপিলের চরের শাহাদৎ, হযরত আলী, মণ্ডলপাড়ার মজিবর রহমান, সুলতান মাহমুদ, রিপন, আজিজার মণ্ডলসহ সারের জন্য আসা অনেক কৃষক।
বেরুবাড়ী ইউনিয়ন সার ডিলার নুর মোহাম্মদ বলেন, এবারে বন্যা না হওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় বেরুবাড়ীতে বেশি জমিতে কৃষক রোপা আমন চাষ করেছেন। সারের চাহিদা ব্যাপক কিন্তু জোগান কম। তারপরেও যথাসম্ভব নিয়ম করে প্রত্যেক কৃষককে সার দেওয়া হচ্ছে। অনেকের আশঙ্কা, সার সংকট হতে পারে এ ভাবনায় কেউ কেউ প্রত্যেক দিন সার নিতে আসেন। এ কারণেও কিছুটা সমস্যা। আর সোমবার গোডাউনে ছিল মাত্র ৪০ বস্তা সার কিন্তু প্রায় ৬০০ কৃষক আসে সারের জন্য। এই অল্প পরিমাণ সার দিয়ে তা সামাল দেওয়া মুশকিল। তাই বাধ্য হয়ে গোডাউন বন্ধ রাখতে হয়েছে।
এ ছাড়াও বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের আমতলা মোড়ে সার ডিলার আদম আলীর গোডাউন খোলা থাকলেও সারের মজুত কম থাকায় অধিকসংখ্যক কৃষক সারের জন্য আসায় বিতরণে জটিলতা দেখা দেয়। বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম জানান, পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে কৃষকদের মাঝে গোডাউনে মজুত থাকা ১৪০ বস্তা ইউরিয়া, ১০০ বস্তা ডিএপি সার বিতরণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন জানান, বামনডাঙ্গায় যা মজুত ছিল তা বিতরণ করা হয়েছে। রামখানা ও বেরুবাড়ীতে আরও সার এলে একসঙ্গে তা কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হবে। মূলত কিছু কৃষক ভাবছে, আগামীতে সার সংকট হতে পারে এ কারণে তাদের মধ্যে মজুত করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ইউএনও মোহাম্মদ আলাউদ্দিন এর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।