সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে গতকাল মঙ্গলবার হুতিদের চালানো হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সব ধরনের সহিংসতার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ তার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে। সৌদি আরবের সরকার ও দেশটির ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশ পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে।’
হুতিদের এসব হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৭ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ সৌদি আরবের ‘সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার প্রতি তার অবিচল সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুতিদের হামলায় আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরানে অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। হামলার কারণে বিভিন্ন স্থানে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং জ্বালানি স্থাপনাগুলোর কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।
সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হুতিদের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালির বাইরেও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে।
হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী থেকে দেশটির সরকারকে উৎখাত করার পর সৌদি আরব এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাদের বিরুদ্ধে লড়াইরত একটি আরব জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই যুদ্ধ কিছুটা শান্ত হয়েছিল। তবে সেখানে যে যুদ্ধবিরতি ছিল, সেটি ভেঙে পড়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের এই বৃহত্তর যুদ্ধ এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শক্তি পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। উভয় পক্ষই আশা করছে, একে অপরের ওপর আরোপ করা অর্থনৈতিক অবরোধ শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করবে।
যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি হয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে অবরোধের মাধ্যমে ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার ধ্বংস করা তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এমন একটি গোপন নেটওয়ার্কের অংশ ছিল, যেটি আইআরজিসি এবং তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের অর্থায়ন করে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ভাষায় একটি ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ বা ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’কে সমর্থন করে আসছে। এই জোটের মধ্যে রয়েছে হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এবং ইয়েমেনের হুতিরা।