অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘জনগণের কাছে সুপেয় ও নিরাপদ পানি পৌঁছানো সরকারের সেবা নয়, দায়িত্ব। তবে সরকারের একার পক্ষে সবসময় সব জনগণের পানির চাহিদা পূরণ করা কঠিন। তাইতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এসব কাজে নিয়োজিত করা। এর ফলে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে একটি সহযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে উঠে, জনচাহিদা পূরণ ও উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিত হয়।’
আজ শুক্রবার হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন ও ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর (এমওইউ) অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চট্টগ্রাম নগরীর সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে পানি সরবরাহ সেবার মান বাড়াতে একটি নতুন সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেল প্রতিষ্ঠায় চট্টগ্রাম ওয়াসার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে বেসরকারি সংস্থা ম্যাক্স ফাউন্ডেশন ও ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ। এ লক্ষ্যে আজ চট্টগ্রাম ওয়াসার পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তরিকুল ইসলাম, ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের এমডি ইয়ামিন ফারুক নিজ নিজ পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন। নেদারল্যান্ডস দূতাবাস এ উদ্যোগে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে তবে তারা সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরকারী পক্ষ নয়।
অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামের খাল ও জলপথকে শুধু পানি নিষ্কাশনের কাজে নয়, পণ্য পরিবহনের পথ হিসেবেও ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে সরকার। বিভিন্ন এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। তাই, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি জলপথের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ উদ্যোগকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি অর্থের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্ষা এলেই নগরীতে পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দেয়। এটা চট্টগ্রামের প্রায় মানুষ জানেন। তাই, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের সঙ্গে সঙ্গে ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’
নেদারল্যান্ডসের জলপথ ব্যবস্থাপনার উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘একসময় দেশটির অনেক খাল ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হয়ে গেলেও সেগুলো পুনরুদ্ধার করে এখন নৌযান ও পণ্য পরিবহনের উপযোগী করা হয়েছে। এখন সেখানে স্বাভাবিকভাবেই নৌযান ব্যবহার করা হচ্ছে। চট্টগ্রামেও এ ধরনের বেশকিছু সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা সেসব সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে চাই।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে, তা চট্টগ্রামের পাশাপাশি সারাদেশে সম্প্রসারিত করা যেতে পারে। বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস শুধু পানি সরবরাহ নয়; বরং নৌপথ পরিবহন, খাল ব্যবস্থাপনা এবং বৃহত্তর পানি-সম্পর্কিত উন্নয়নেও একসঙ্গে কাজ করতে পারে।’
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, তিন বছর মেয়াদী সমঝোতা স্মারকের আওতায় তিনটি পক্ষ যৌথভাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য একটি উদ্ভাবনী সরকারি-বেসরকারি পানি সরবরাহ মডেল অনুসন্ধান ও পরীক্ষা করবে। নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডকে এ কাজের পাইলটিং হিসেবে ধরা হয়েছে। এ দুটি ওয়ার্ড অর্থমন্ত্রীর সংসদীয় এলাকার অধিভুক্ত। এ দুটি ওয়ার্ডে বর্তমানে ওয়াসার পানি সরবরাহের পরিমাণ চাহিদার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে নেদারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন এবং বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ইয়ান ভ্যান ডার লিন্ডেন, দুটি ওয়ার্ডের অধিবাসীদের পক্ষে অর্থমন্ত্রীর ছেলে ইসরাফিল খসরু, ওয়াসাসহ সরকারি কয়েকটি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।