ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়লেন তাওহীদ হৃদয়। সতীর্থদের একের পর এক বিদায়ের মধ্যেও এক প্রান্ত আগলে রেখে খেললেন ক্যারিয়ারসেরা ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস। তার অসাধারণ ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রান সংগ্রহ করে ৩০ রানের লিড নিয়েছে বাংলাদেশ।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৯ উইকেটে ৩৮৬ রানে। ইনজুরির কারণে সাদমান ইসলাম ব্যাটিংয়ে নামতে না পারায় অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়তে হয় হৃদয়কে। ৩৫৯ বলের ইনিংসে তিনি হাঁকিয়েছেন ২২টি চার ও ১১টি ছক্কা।
বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এটিই এখন সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। এতদিন রেকর্ডটি ছিল মুশফিকুর রহিমের দখলে। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ২১৯ রান করেছিলেন তিনি। এবার ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় টেস্টেই সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন হৃদয়।
দিনের শুরুতে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের বিদায়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ৩৪ রান করে জোমেল ওয়ারিকেনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুশফিক। এরপর মাত্র ৮ রান করে একই বোলারের শিকার হন লিটন।
হৃদয়কে সঙ্গ দিতে গিয়ে ১৬ রান করে ফিরে যান মেহেদী হাসান মিরাজ। ভাঙে ৪১ রানের জুটি। এরপর হাসান মাহমুদও ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। একের পর এক উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।
তবে লোয়ার অর্ডারকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান হৃদয়। তাইজুল ইসলামের সঙ্গে গড়েন গুরুত্বপূর্ণ ১১৭ রানের জুটি। এই জুটিতেই ৩০০ রানের গণ্ডি পেরোয় বাংলাদেশ। ব্যক্তিগত ২২ রান করে তাইজুল স্টাম্পিংয়ের শিকার হলে ভাঙে জুটি। এটি ছিল ওয়ারিকেনের চতুর্থ উইকেট।
এরপর শেষ ব্যাটার তাসকিন আহমেদকে নিয়ে অবিশ্বাস্য লড়াই চালিয়ে যান হৃদয়। তাসকিন করেন ১২ রান। তাকে সঙ্গী করেই ৩০৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই ডানহাতি ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত তাসকিনের বিদায়ে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।