ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনি আদালত থেকে জামিন পাওয়ার দিনই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন। আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ওপর তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের চড়াও হওয়া এবং পরবর্তীতে অভিনেত্রীর সামাজিক মাধ্যমে অশালীন ভাষায় পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পাওয়ার পর এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি মামলায় নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির না হওয়ায় বুধবার (৪ নভেম্বর) পরীমনির জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
তবে আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাকে কেউ ‘ব্যাড টাচ’ করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন এ অভিনেত্রী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে এক সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ ওঠে পরীমনির বিরুদ্ধে। একই সময়ে তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরাও সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হন। এতে গণমাধ্যমকর্মীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আরও পড়ুনআরও পড়ুনপরীমনির বিরুদ্ধে সাংবাদিককে খামচি দেওয়ার অভিযোগ
আদালত প্রাঙ্গণের উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মাত্র দুটি শব্দের একটি পোস্ট দেন পরীমনি। পোস্টের ভাষা ছিল চরম আপত্তিকর ও আক্রমণাত্মক। যদিও তিনি কাকে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য করেছেন, তা স্পষ্ট করেননি।
পোস্টটি প্রকাশের পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যে হাজার হাজার লাইক পড়ে। তবে কমেন্ট বক্স বন্ধ থাকায় অনুসারীরা সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেননি। এই অশালীন ভাষার পোস্টকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
সমালোচকদের মতে, ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা বিরক্তি থাকতেই পারে, তবে একজন জনপ্রিয় পাবলিক ফিগারের পক্ষ থেকে এমন অশালীন ভাষার ব্যবহার ও আক্রমণাত্মক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
প্রসঙ্গত, পরীমনির থেকে এমন প্রতিক্রিয়া অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেও এই অভিনেত্রীর বিভিন্ন আইনি জটিলতা, আদালত প্রাঙ্গণে অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি (যেমন: হাতের তালুতে উসকানিমূলক বার্তা লিখে পোজ দেওয়া) এবং সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট বারবার আলোচনার জন্ম দিয়েছে।