রাজধানীর গুলশানে উচ্চ শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য চোরাচালান, মজুত এবং কর ফাঁকি দিয়ে বিক্রির অভিযোগে ‘কিংফিশার রেস্টুরেন্ট লিমিটেড’-এ গভীর রাতে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চারটি বিশেষায়িত গোয়েন্দা সংস্থা। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে কোনো প্রকার বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই মজুত রাখা বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় জব্দ করা হয়েছে।
আজ সোমবার এনবিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় গুলশানের ৪৫ নম্বর রোডের ৩৩ নম্বর প্লটের গ্রাউন্ড, ৩য় ও ৪র্থ তলায় অবস্থিত কিংফিশার রেস্টুরেন্টে একযোগে এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এনবিআরের নির্দেশনায় এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলো হলো-সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি),কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট (টিআইআইইউ) এবং মূল্য সংযোজন কর নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (ভিএআইআইডি)।
অভিযানের পুরো সময় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দেয় পুলিশের বিশেষায়িত দল স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১)।
অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ উৎস ও চোরাচালানের মাধ্যমে সংগৃহীত অ্যালকোহল জাতীয় পানীয়ের মজুত শনাক্তকরণ,স্থানীয় পর্যায়ে এসব পণ্য বিক্রয়ের ওপর প্রযোজ্য ভ্যাট ফাঁকি প্রতিরোধ, বিক্রয়লব্ধ অর্থ আয়কর নথিতে যথাযথভাবে প্রদর্শিত হয়েছে কি না এবং এর মাধ্যমে কোনো প্রকার মানি লন্ডারিং সংঘটিত হয়েছে কি না-তা খতিয়ে দেখতেই এই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অভিযানটি কাস্টমস আইন, ২০২৩; মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২; মূসক বিধিমালা, ২০১৬ এবং আয়কর আইন, ২০২৩-এর বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পরিচালিত হয়।
এনবিআর জানিয়েছে, অভিযানে আটককৃত অ্যালকোহলের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্য, সম্ভাব্য শুল্ক ও কর ফাঁকির সার্বিক হিসাব এবং প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে পরবর্তীতে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হবে।